মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ জুলাই : শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শ্রীভূমি জেলা শিক্ষা বিভাগ। পরীক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের পারিবারিক পরিবেশ, মানসিক অবস্থা ও পড়াশোনার অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য শুরু হচ্ছে ‘প্রকল্প ১০০% সাফল্য HSLC ও HS পরীক্ষা-২০২৭’। মঙ্গলবার শ্রীভূমি স্কুল পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত এক সরকারি নির্দেশিকায় জেলার সরকারি, প্রাদেশিকীকৃত, বেসরকারি হাইস্কুল, উচ্চমাধ্যমিক ও সিনিয়র সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকরা গৃহ পরিদর্শন করবেন।
শিক্ষা বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ, নিয়মিত অধ্যয়ন, পরীক্ষার প্রস্তুতি, পারিবারিক সমস্যা এবং মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মধ্যে আরও কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গৃহ পরিদর্শনের সময় শিক্ষকরা পাঠ্যক্রম সম্পূর্ণ হওয়ার অগ্রগতি, পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার, পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র অনুশীলন এবং পুনরাবৃত্তির অবস্থা পর্যালোচনা করবেন। যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল, সেখানে অতিরিক্ত ক্লাস, বিশেষ কোচিং এবং সন্দেহ নিরসনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক অধ্যয়ন পরিকল্পনাও তৈরি করা হবে।
নির্দেশিকায় কম উপস্থিতি, দুর্বল ফলাফল, বিদ্যালয় ত্যাগের ঝুঁকি কিংবা আর্থিক ও সামাজিক সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের যৌথ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। বোর্ড পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা এবং নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস তৈরিতে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে সচেতন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি গৃহ পরিদর্শনের তথ্য নির্ধারিত হোম ভিজিট রেজিস্টারে সংরক্ষণ করতে হবে এবং মাসিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিদর্শক বা বিইইও-র মাধ্যমে জমা দিতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধানদের এই কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিদর্শক নীলমজ্যোতি দাস নির্দেশিকায় উল্লেখ করেছেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্য নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তিনি নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং শ্রীভূমি জেলার বোর্ড পরীক্ষার ফল আরও উন্নত করতে শিক্ষা বিভাগের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে শিক্ষা মহলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।



