বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয় ফেসবুক লাইভ, একাধিক ত্রাণ ও পুনর্বাসন পদক্ষেপের ঘোষণা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৮ জুলাই: শিবসাগর, চরাইদেউ, যোরহাট এবং গোলাঘাট জেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয়বারের মতো ফেসবুক লাইভে এসে রাজ্যের মানুষকে পরিস্থিতি ও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

লাইভের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিবসাগর ও চরাইদেউ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন। বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। একইভাবে যোরহাট ও গোলাঘাট জেলাতেও বন্যা ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য রাজ্য সরকার যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, সে বিষয়েও তিনি এই লাইভে বিস্তারিত জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের বন্যায় অসমের ২৫টি জেলার ৭৭টি রাজস্ব চক্রের ২,১৫৭টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর ও চরাইদেউ জেলা। পাশাপাশি যোরহাট ও গোলাঘাটও বন্যার মারাত্মক প্রভাবের মুখে পড়েছে।
তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত এই চার জেলায় ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিবসাগরে ৩০ জন, চরাইদেউতে ২০ জন, যোরহাটে ৯ জন এবং গোলাঘাটে ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৭৬ হাজার গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৭৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই পরিসংখ্যান থেকেই দুর্যোগের ভয়াবহতা সহজেই অনুমান করা যায়।”

ড. শর্মা বলেন, ১৮ জুলাই বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী বিমল বড়া, কেশব মহন্ত ও সুশান্ত বরগোহাঁই গত প্রায় দশ দিন ধরে শিবসাগর ও চরাইদেউ জেলায় অবস্থান করে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন।

দুই জেলার জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে হাজার হাজার সরকারি কর্মী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। ভারতীয় বায়ুসেনা, ভারতীয় সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী, অসম পুলিশ এবং প্রায় এক হাজার স্বেচ্ছাসেবক যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। ১২৯টি নৌকার সাহায্যে মোট ২৯,৯৮২ জন বন্যাদুর্গতকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ২২,৩২৭ কুইন্টাল চাল, ৪,২৫০ কুইন্টাল ডাল, ১,১৬৮ কুইন্টাল লবণ, ৯৬,৫৬৮ লিটার কেরোসিন এবং ৫৭,২১৫টি ত্রিপল বন্যাকবলিত এলাকায় সরবরাহ করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তায় সরকার সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলার অরুণোদয় প্রকল্পের উপভোক্তারা এ মাসে সরকারের পক্ষ থেকে ২,৫০০ টাকা করে পাবেন।

অন্যদিকে, রাজ্যের বাকি জেলার অরুণোদয় প্রকল্পের উপভোক্তারা এবার আগের তুলনায় সামান্য কম পরিমাণ অর্থ পাবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বন্যাদুর্গত পরিবারগুলিকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *