দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৩ অক্টোবর : চলমান জেন-জি আন্দোলনের তীব্র বিরোধিতা করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মসূচি বলে আখ্যা দিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। সংগঠনটির দাবি, এই ধরনের আন্দোলন দেশের অন্দরে অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মঙ্গলবার শিলচরের পেনশনার্স ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক কমলেশ সিং। তিনি জানান, কক্রোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলনকে এবিভিপি কোনওভাবেই সমর্থন করে না। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মসূচি দেশের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এবিভিপির বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন কমলেশ সিং। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সংগঠনের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংগঠনের আগামী কর্মসূচি প্রসঙ্গে কমলেশ সিং জানান, আগামী নভেম্বর মাসে বিভিন্ন কলেজে ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে ছাত্রীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনের।

উত্তর-পূর্ব ভারতের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে এবিভিপি। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তঃরাজ্য ছাত্র বিনিময় কর্মসূচিতে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ভিনরাজ্যের পড়ুয়াদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ পাবেন।
এছাড়াও, সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের ইটানগরে অনুষ্ঠিত এবিভিপির সর্বভারতীয় পদাধিকারীদের বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। চলতি শিক্ষাবর্ষে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির সন্দীপন ভট্টাচার্য এবং গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি শাখার প্রতিনিধি মুন দাস ও অম্বর পাণ্ডে।



