মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৯ সেপ্টেম্বর : বাজারিছড়া এলাকার কালাছড়া নেতাজিপল্লীতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন এলাকার সুপরিচিত প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও সমাজসেবী অখিল চক্রবর্তী। সোমবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অখিল চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাসভবনেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। সোমবার রাতে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগের মধ্যেই শেষপর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে বৃহত্তর বাজারিছড়া এলাকা। অত্যন্ত সৎ, বিনয়ী, স্বল্পভাষী এবং সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে অখিল চক্রবর্তী স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে যেমন তিনি অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন, তেমনি সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
অখিল চক্রবর্তী তাঁর কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বাজারিছড়ার রাণুপ্রভা পাল এমই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও আন্তরিকতার কারণে ছাত্রছাত্রীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন শিক্ষক।দীর্ঘ কর্মজীবনের পর ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তবে অবসর গ্রহণের পরও সমাজ ও মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন।শিক্ষকতার পাশাপাশি অখিল চক্রবর্তী স্থানীয় সমাজজীবনের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। কালাছড়ার নেতাজি সংঘ ক্লাবের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর পরামর্শ ও সহযোগিতা গুরুত্ব পেত।এছাড়াও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও তাঁর ছিল উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর শান্ত, সৌম্য ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁকে আরও শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই বিবাহিত কন্যা, দুই পুত্র, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণমুগ্ধকে রেখে গেছেন।তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই রাতেই বহু আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শুভানুধ্যায়ী এবং পরিচিতজন তাঁর কালাছড়ার নেতাজীপল্লীর বাসভবনে ছুটে যান। তাঁরা প্রয়াতের শেষ দর্শন করার পাশাপাশি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে গভীর সমবেদনা জানান।
মঙ্গলবার সকালে নিজ গ্রামের শ্মশানঘাটে প্রয়াত অখিল চক্রবর্তীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁর শেষযাত্রায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান।তাঁর প্রয়াণে নেতাজী সংঘসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও তাঁর পরিচিত মহলের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানানো হয়েছে আন্তরিক সমবেদনা।একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক, সৎ ও নিরহংকার মানুষ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ ব্যক্তিত্ব হিসেবে অখিল চক্রবর্তীর অবদান ও স্মৃতি স্থানীয় মানুষের মনে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে।



