
বরাক তরঙ্গ, ১৫ এপ্রিল : রাজ্যজুড়ে বিহুর আনন্দে মুখর পরিবেশ—ঢোল-পেপার সুরে মুখরিত আকাশ-বাতাস। কিন্তু এই উৎসবের আবহের মাঝেই বস্ত্রনগরী শুয়ালকুচি থেকে এল এক হৃদয়বিদারক খবর। পহেলা বৈশাখের দিনেই এক বৃদ্ধার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। একটি প্রদীপের শিখা মুহূর্তের মধ্যে ছাই করে দিল তাঁর স্বপ্নের ঘর। শুয়ালকুচির কাঞ্চননগর এলাকায়, শ্রীমন্ত গ্রাহক সমবায় ভাণ্ডারের পাশে বসবাসকারী কুঞ্জ নাথ নামের এক বৃদ্ধার বাড়িতে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চোখের পলকে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে গোটা বসতবাড়ি।
জানা গেছে, পহেলা বৈশাখের মুহূর্তে মঙ্গল কামনায় গৃহস্থালির থাপনায় একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে তিনি স্থানীয় নামঘরে গিয়েছিলেন। সেই প্রদীপ থেকেই দুর্ভাগ্যবশত আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। এই অগ্নিকাণ্ডে ঘরের কোনও সামগ্রীই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরনের কাপড় থেকে শুরু করে খাদ্যশস্য—সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু সম্পত্তিই নয়, বৃদ্ধার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রায় ৫ লক্ষ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যে দিনে বিহুর আনন্দে তাঁর মুখে হাসি ফোটার কথা ছিল, সেই দিনেই আজ চোখের জলে ভাসছেন কুঞ্জ নাথ। সর্বস্ব হারানো এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।



