হৃদয়বিদারক কাণ্ড, তিন সন্তানের জননী দায়িত্ব নিতে পুলিশের লটারি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৪ জুন : হৃদয়বিদারক ও অমানবিক কাণ্ড! নিজেরই কন্যাদের অবহেলার শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হলেন এক বৃদ্ধা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শেষ পর্যন্ত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে এবং নিতে হয় এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি অসমের শুয়ালকুচির।

প্রায় ৬৫ বছর বয়সী ওই মহিলা একজন বিধবা এবং তিন কন্যার জননী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শুয়ালকুচিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন এবং তাঁত বুনে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের মানুষ করলেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি পড়েছেন চরম অসহায় অবস্থায়।

তিন কন্যাই বর্তমানে বিবাহিত এবং নিজ নিজ পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও অসুস্থ মায়ের দায়িত্ব নিতে কেউই এগিয়ে আসেননি। বয়সজনিত কারণে শারীরিক ও আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন ওই বৃদ্ধা।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুই কন্যা তাঁকে গুয়াহাটির একটি রাস্তার ধারে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে গরচুক পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে শুয়ালকুচি পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তিন কন্যার সন্ধান পেয়ে মায়ের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউই মাকে নিজের কাছে রাখতে রাজি হননি। পরিস্থিতির কোনও সমাধান না পেয়ে পুলিশ এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করে। তিন কন্যার মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় কে মায়ের দেখভালের দায়িত্ব নেবেন।

পুলিশের মধ্যস্থতায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে তিন কন্যাকেই পালাক্রমে এক সপ্তাহ করে তাঁদের মায়ের দায়িত্ব নিতে হবে এবং তাঁর প্রয়োজনীয় যত্ন ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

পরিবার যেখানে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে বৃদ্ধাকে পুনরায় অবহেলিত অবস্থায় পড়তে না দেওয়ার লক্ষ্যে পুলিশের এই মানবিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *