শেষ রক্ষা হলো না! আজমেরে চার খুনের ঘটনায় ধৃত দুই সন্তান সহ মহিলা

Spread the news

২৯ মে : রাজস্থানের আজমেরে চারজনকে হত্যার পর পোড়ানোর ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।  পুলিশের দাবি, যাঁকে ঘিরে এত শোক, সেই গৃহবধূই ছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী। চারজন আত্মীয়কে খুনের পর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কান্নাকাটি ও শোকের অভিনয় করে সবাইকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

আজমের জেলার শ্রীরামপুরা গ্রামের কাছে হাইওয়েতে একটি জ্বলন্ত স্করপিও গাড়ি দেখতে পান স্থানীয় গ্রামবাসীরা। গাড়িটির ভেতর থেকে তিনটি এবং নিকটবর্তী মাঠ থেকে আরও একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন প্রধান রাম সিং চৌধুরী, তাঁর মা পুসি দেবী, দ্বিতীয় স্ত্রী সূর্যজ্ঞান দেবী এবং পরিবারের এক আত্মীয় মহিমা চৌধুরী।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ বিষয়টিকে পথ দুর্ঘটনা বলে মনে করলেও, ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টে শরীরে আঘাতের চিহ্ন মেলায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। আজমেরের এসপি হর্ষ বর্ধন আগরওয়ালা জানান, তদন্তের মোড় ঘুরতেই সন্দেহের তীর এসে পড়ে রাম সিংয়ের প্রথম স্ত্রী সুনীতা চৌধুরীর দিকে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, রাম সিংয়ের দুই স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিবাদ দীর্ঘদিনের ছিল। বুধবার রাতে এই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। পুলিশের অভিযোগ, সুনীতা তাঁর মেয়ে সরিতা এবং নাবালক ছেলেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই চারজনকে হত্যা করেন। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য মৃতদেহগুলিকে গাড়িতে তুলে হাইওয়েতে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হয়।

হত্যার পর সুনীতা গ্রামের মহিলাদের সঙ্গে বসে অঝোরে কাঁদতে থাকেন এবং শোকের অভিনয় করেন, যাতে কেউ তাঁকে সন্দেহ না করে। কিন্তু গ্রামবাসীদের দেওয়া তথ্য এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে পুরো ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায়। পুলিশ সুনীতা এবং তাঁর দুই সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। প্রিয়জনদের হত্যার পর এই নির্লজ্জ অভিনয়ের ঘটনা দেখে হতবাক এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *