গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু, তদন্তে নতুন মোড়

Spread the news

আসিক আলি নামে যুবক গ্রেফতার, হোমস্টের মালিকও আটক; ইনকোয়েস্ট রিপোর্টে আঘাতের চিহ্নের উল্লেখ

বরাক তরঙ্গ, ২৭ সেপ্টেম্বর : গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। এই ঘটনায় পুলিশ আসিক আলি নামে ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। পেশায় র‌্যাপিডো চালক আসিকের পাশাপাশি ‘RUDRA’S KITCHEN’ হোমস্টের মালিক জয়ন্ত সাথীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্তের মধ্যেই প্রকাশ্যে আসা ম্যাজিস্ট্রেটের ইনকোয়েস্ট রিপোর্টে ছাত্রীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মুখ, হাত, মাথা এবং শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাতের চিহ্নের উল্লেখ রয়েছে। গোপনাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন থাকার দাবি উঠেছে। তবে কীভাবে এবং কখন ওই আঘাতগুলি লেগেছিল, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এক যুবকের সঙ্গে ওই ছাত্রী হোমস্টেতে পৌঁছেছিলেন। হোমস্টের কর্মীরা তাঁদের আগে কয়েকবার দেখেছিলেন বলেও জানা গেছে। রাতে হোমস্টেতে তাঁদের মধ্যে মদ্যপানের আসর বসেছিল বলেও তদন্তে তথ্য উঠে এসেছে। তাঁরা এক প্লেট ভাত ও ডিমের তরকারি অর্ডার করেছিলেন বলে জানা গেছে। এরপর রাত প্রায় ২টা নাগাদ আসিক আলি হোমস্টের রাঁধুনিকে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে তোলেন বলে জানা যায়।

এদিকে, ছাত্রীর বাবার দাবি, রাত প্রায় ২টার সময় তাঁর মেয়ে মাকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি বলেছিলেন, “মা, ওরা আমাকে বুকে লাথি মেরেছে। আমি শ্বাস নিতে পারছি না।” এরপর ফোনটি কেটে যায়। পরিবারের দাবি, ফোনের অপর প্রান্তে দুই-তিনজন যুবকের কথাবার্তাও শোনা গিয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন পরিবার পুলিশকে খবর দেয়। পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। এরই মধ্যে গড়ল এলাকার ‘RUDRA’S KITCHEN’ থেকে সংকটজনক অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রথমে তাঁকে গড়ল PHE-তে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (GMCH) স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, রাত প্রায় ৩টা নাগাদ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ‘জোন’ নামে এক ব্যক্তি ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকেছিলেন বলেও জানা গেছে। সেই সময় আসিক আলিও ছাত্রীর সঙ্গে ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রীর বাবা। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার যথাযথ তদন্ত এখনও হয়নি। বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা প্রায় ৫টা নাগাদ মেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। খেতে যাওয়ার কথা বলে বেরোনোর পর পরে এক বান্ধবীর সঙ্গে হোস্টেলে থাকার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন তিনি। ২২ বছর ধরে লালন-পালন করা মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বছরের সমন্বিত পাঠ্যক্রমের স্নাতক স্তরের ছাত্রী ছিলেন ওই তরুণী। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।

রাতে হোমস্টেতে ঠিক কী ঘটেছিল? তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন কীভাবে এল? রাত ২টার সময় ফোন করার সময় তাঁর সঙ্গে কারা ছিলেন? ফোন করার পর মোবাইল কেন বন্ধ হয়ে গেল? আসিক আলি ও ওই ছাত্রীর সঙ্গে হোমস্টেতে অন্য কেউ ছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণও তদন্তের বিষয় হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন দাবি ও তথ্য সামনে এলেও সেগুলির সবকটি পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হওয়া আসিক আলিকে আজ আদালতে হাজির করা হবে। আদালতে হাজির করার পর তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করবে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *