বিদ্যালয় সংলগ্ন গাছে ৯ ফুট লম্বা বার্মিজ পাইথন উদ্ধার, শিলচরে চাঞ্চল্য

Spread the news

রূপক চক্রবর্তী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুন : শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের পাশের শিশুবিতান স্কুল সংলগ্ন এলাকায় একটি গাছ থেকে প্রায় ৯ ফুট লম্বা বিশাল আকৃতির বার্মিজ পাইথন উদ্ধারকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সর্প উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে বন বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার সকালে সর্প উদ্ধারকারী ত্রিকাল চক্রবর্তীর কাছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে খবর আসে স্কুলের পাশে একটি গাছের ডালে বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ অবস্থান করছে। খবর পেয়েই তিনি তাঁর সহযোগী দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
উদ্ধারকারী দল প্রথমেই এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। স্কুল এলাকা হওয়ায় সেখানে শিশুদের নিয়মিত যাতায়াত থাকে এবং যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। এরপর পরিকল্পিতভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

প্রায় এক ঘণ্টার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দলটি সফলভাবে গাছ থেকে সাপটিকে নামিয়ে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার হওয়া সাপটিকে বার্মিজ পাইথন বা বার্মা অজগর হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

উদ্ধারকারী ত্রিকাল চক্রবর্তীর মতে, সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১২ কেজি। তিনি জানান, বার্মিজ পাইথন একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী এবং ভারতীয় বন সংরক্ষণ আইনের আওতাভুক্ত। এই প্রজাতির সাপ হত্যা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সাধারণত জলাশয় ও জলাভূমি সংলগ্ন এলাকায় এদের বসবাস। তাঁর ধারণা, আশপাশের কোনও জলাশয় থেকে বেরিয়ে রোদ পোহানোর উদ্দেশ্যেই সাপটি গাছে উঠেছিল।

এদিকে, শিশুবিতান স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যালয়ের পাশের একটি বড় নালা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং ঝোপঝাড়ে ভরা পরিবেশের কারণে সেখানে অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, এলাকায় দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি সঙ্গীত বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিদিন বহু ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকের যাতায়াত হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বৃহৎ আকৃতির সাপের উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। প্রধান শিক্ষিকা শিলচর পুর নিগম ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিদ্যালয় সংলগ্ন নালা, ঝোপঝাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার করার আবেদন জানান।

অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া বার্মিজ পাইথনটিকে বন বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর সাপটিকে তার উপযোগী প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।

বিদ্যালয় এলাকার মতো জনবহুল স্থানে বার্মিজ পাইথনের উপস্থিতি একদিকে যেমন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে দ্রুত উদ্ধার অভিযানের ফলে একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীকে নিরাপদে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এখন এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দ্রুত নালা ও জঙ্গল পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *