১৩ মার্চ : যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কৌশল অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্য নীতি পরিচালনা করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে এক প্রকার ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘মিডল ইস্ট আই’-এ প্রকাশিত সোমায়া ঘানুশির এক নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে যে, নেতানিয়াহু মার্কিন শক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে এনেছেন, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
নিবন্ধে বলা হয়, নেতানিয়াহু দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থানে যাওয়ার জন্য প্ররোচিত করেছেন। এতে তিনি সফলও হয়েছেন। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মতো ঘনিষ্ঠ মহলের মাধ্যমে এই চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কার্যত একই লক্ষ্য নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত, যা আগে এতটা স্পষ্ট ছিল না।
উপসাগরীয় দেশগুলো (সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার) এতদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নিরাপত্তার বিনিময়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছিল। তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি হিসেবে মনে করত। কিন্তু এখন এই ঘাঁটিগুলোই উল্টো তাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার ফলে এই দেশগুলো এখন সরাসরি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এই যুদ্ধ শুরু করার আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি। অথচ এই অঞ্চলের দেশগুলো বারবার ওয়াশিংটনকে এই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা এখন নিজেদের অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধের অংশ হতে বাধ্য হচ্ছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিশাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে—যার মধ্যে ট্রাম্পের নানা উদ্যোগে শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে সেই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের কোনও প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। উল্টো এখন মার্কিন সমর্থকরা এই দেশগুলোকেও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।




