১২ মার্চ : পারিবারিক অশান্তির জেরে এক সরকারি নার্সকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে কোচবিহার শহরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই নার্সের। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাতে কোচবিহার শহরের বক্সিবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিবাদকেই ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হলেও এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত নার্সের নাম ছন্দা রায় (৩৫)। তিনি কোচবিহার এমজেএম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। কোচবিহার শহরের বক্সিবাড়ি সংলগ্ন একটি বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকতেন তিনি। তাঁর স্বামী রঞ্জিত রায় শিলিগুড়িতে গাড়ি চালানোর কাজ করেন এবং মাঝেমধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে কোচবিহারে আসতেন। দম্পতির একমাত্র মেয়ে কালিম্পংয়ের একটি স্কুলে পড়াশোনা করে এবং সেখানেই থাকত। জানা গেছে, কিছুদিন ধরে ছন্দা ও রঞ্জিতের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশান্তি চলছিল। সেই বিরোধ একসময় থানা পর্যন্ত গড়ালেও স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি ছন্দা।
স্থানীয়দের দাবি, বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন ছন্দা। সেই সময় তাঁর হাতে বাজারের ব্যাগ ছিল। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে আসেন তাঁর স্বামী রঞ্জিত। রাত বাড়তেই তাঁদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয়রা চিৎকার শুনে বাড়ির দিকে ছুটে যান এবং ঘরের ভেতর আগুন জ্বলতে দেখেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা জানান, তিনি একজন ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে দৌড়ে পালাতে দেখেছেন, যার শরীরেও আগুন লেগেছিল। পরে ওই ব্যক্তিকে জামা খুলে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। এদিকে বাড়ির গেটের সামনে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ছন্দা রায়কে। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলের কাছেই পাওয়া যায় রঞ্জিত রায়কে। তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল ও পুলিশ। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
বাড়ির মালিক দেবজিৎ বর্মা জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তাঁর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ছন্দা। তাঁর কথায়, ছন্দা তাঁর স্বামীকে একটি গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন এবং সেই গাড়ির ইএমআই নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে অশান্তি চলত। একবার বিষয়টি নিয়ে থানাতেও যাওয়া হয়েছিল, তবে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রুমা দত্ত বলেন, “চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি এক ব্যক্তি পালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর শরীরেও আগুন লেগেছিল। জামা খুলে পালিয়ে যান তিনি। আর ওই মহিলা চিৎকার করতে করতে বাড়ির সামনে লুটিয়ে পড়েন।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যদি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে তবে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।




