কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ১১ মার্চ : কাছাড় জেলার পয়লাপুলের জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ছাত্রের নাম অরিন্দম দাস। বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের শৌচালয় থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর একজন শিক্ষক ফোন করে অরিন্দমের বাবা অনুপম দাসকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে শিলচর চেঙকুড়ি রোডের বাসিন্দা অনুপম দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত পয়লাপুল নবোদয় বিদ্যালয়ে পৌঁছান এবং সেখানে পুত্রের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
পরে লক্ষীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাবার উপস্থিতিতে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে মৃত ছাত্রের প্যান্টের পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার হয়। চিরকুটে তিনজন ছাত্রের নাম লেখা ছিল—স্বপ্নজিত, সিদ্ধার্থ ও ফাহিম। এই ঘটনায় মৃত ছাত্রের বাবা অনুপম দাস লক্ষীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে উল্লিখিত তিন ছাত্র—স্বপ্নজিত, সিদ্ধার্থ ও ফাহিমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বাবার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই তিন ছাত্র র্যাগিংয়ের নামে অরিন্দমের উপর মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি অরিন্দম একাধিকবার তার হাউস মাস্টার ও বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকে জানালেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
র্যাগিংয়ের চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অরিন্দম এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় বলে পরিবারের দাবি। উল্লেখ্য, পয়লাপুল নবোদয় বিদ্যালয়ে এর আগেও এ ধরনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।



