বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ২০২৫ ও জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি ২০২৬-এর বিরোধিতায় শিলচরে দিনভর বিক্ষোভ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১০ মার্চ : কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ২০২৫ সংসদে উত্থাপনের সম্ভাবনার বিরোধিতা এবং জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি ২০২৬ অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করলেন বিদ্যুৎ কর্মী, ইঞ্জিনিয়ার ও পেনশনাররা। ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি অফ ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের আহ্বানে এবং অসম রাজ্য বিদ্যুৎ কর্মী, ইঞ্জিনিয়ার ও পেনশনার্সদের কাছাড় বৈদ্যুতিক সার্কল কমিটির ব্যবস্থাপনায় অসমের প্রতিটি জেলা ও বিদ্যুৎ কার্যালয়ে দিনভর এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

এরই অংশ হিসেবে শিলচর বিদ্যুৎ সংমণ্ডল–১-এর অন্তর্গত বিদ্যুৎ উপ-সংমণ্ডল–১, পানপট্টি কার্যালয়েও দিনব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভে বক্তারা সরকারের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ২০২৫ সংসদে পেশ করার উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা জানান এবং একই সঙ্গে জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি ২০২৬ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি তোলেন। বক্তাদের অভিযোগ, নতুন বিদ্যুৎ নীতির আড়ালে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে দেশি-বিদেশি কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ২০২৫ এবং জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি ২০২৬ শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী। এই কারণেই দেশব্যাপী বিদ্যুৎ কর্মীদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বিক্ষোভস্থলে আরও কয়েকটি দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—অসম বিদ্যুৎ নিগমে কর্মরত অস্থায়ী ও ঠিকাভিত্তিক কর্মীদের অবিলম্বে স্থায়ীকরণ, সাবস্টেশনে ঠিকাদারি ব্যবস্থা বাতিল, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, শ্রমিকবিরোধী শ্রম কোড বাতিল, বিদ্যুৎ কর্মচারী, ইঞ্জিনিয়ার ও পেনশনারদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষিত করা।

এদিনের বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন মলয় ভট্টাচার্য, চঞ্চল ভট্টাচার্য, যীশু নাথ, চিত্রবানু ভৌমিক ও গৌরাঙ্গ বণিক। উপস্থিত ছিলেন অরূপ পাল, সহরাব মহসিন বড়ভূইয়া, রাজু বার্মা, পিনাকপানি হোম চৌধুরী, গোপাল চক্রবর্তী, গৌরাঙ্গ দেব, পল্লব চৌধুরী, শেখর রায়সহ অনেকে।

অন্যদিকে মানবেন্দ্র ধরের পরিচালনায় কাছাড় বৈদ্যুতিক সার্কলের অন্তর্গত এপিডিসিএলের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কার্যালয় মেহেরপুরেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়। সঞ্জয় ঘোষের পরিচালনায় শিলচর উপ-সংমণ্ডল–২, উপ-উপসংমণ্ডল–৩, কালাইন, উদারবন্দ, লক্ষীপুর ও সোনাই এলাকাতেও একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির শেষে জানানো হয়, দেশব্যাপী আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য বিকেল ৫টায় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের একটি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ায় জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানান সংগঠনের নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *