মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ মার্চ : পাথারকান্দি এলাকার সুপরিচিত সমাজসেবিকা এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ নির্মলা দেবী রাজকুমারী (নেনা)-র প্রয়াণে সমগ্র এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে উৎসর্গ করে রাখা এই মহীয়সী নারীর প্রয়াণে পাথারকান্দি আজ হারাল এক নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মীকে। রবিবার সন্ধ্যা প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে পাথারকান্দি এলাকার রাজারগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজারগাঁওসহ সমগ্র পাথারকান্দি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকার অসংখ্য মানুষ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজন তাঁর বাড়িতে ভিড় জমিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
নির্মলা দেবী রাজকুমারী এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা পাথারকান্দি এলাকার মানুষ আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাঁর ছিল উল্লেখযোগ্য অবদান। ২০০২ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি পাথারকান্দি জিপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি পাথারকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব সম্পন্ন করেন। তাঁর নেতৃত্বে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।
তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল পাথারকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস স্থানান্তর। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং উদ্যোগে তৎকালীন সময়ে পাথারকান্দি মাছ বাজার এলাকায় অবস্থিত পঞ্চায়েত অফিসটি স্থানান্তর করে বর্তমান রাজারগাঁওয়ে স্থাপন করা হয়। এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর কাছে তাঁর দূরদর্শিতা ও জনস্বার্থে কাজ করার মানসিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন এক স্নেহময়ী মা এবং পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন ৫ পুত্র, ৪ পুত্রবধূ, ৬ জন নাতি ও ৫ জন নাতনি সহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণমুগ্ধকে। তাঁর স্নেহ, ভালোবাসা এবং আদর্শ পরিবার ও সমাজের মানুষের কাছে আজও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
সোমবার সকালে রাজারগাঁওয়ে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষ, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত হয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।



