ভারত বিরোধী জিগির থেকে কী সরে আসবে বাংলাদেশ?

Spread the news

।। প্রদীপ দত্ত রায় ।।
(লেখক প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী)
৫ মার্চ : বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ভারতের সঙ্গে এই দেশের সম্পর্ক ফের আগের মতই মৈত্রীসুলভ হয়ে উঠবে এমনটাই আশা করা হচ্ছে। সরকার গঠনের আগে জুলাই আন্দোলনকারীদের নিয়ে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল, সে সরকার ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করা এমনকি দখল করার হুংকার পর্যন্ত দিয়েছিল। চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডরকে দখল করে উত্তর পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুংকার বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে করা হয়েছে। মোহাম্মদ ইউনুস নিজে চিনের প্রতিনিধিদের সামনে অক্লেসে বলেছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাংলাদেশের উপর নির্ভরশীল এবং এটা একটু চেষ্টা করলেই বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। বাংলাদেশের তরফ থেকে এ ধরনের হুঙ্কার পাওয়ার পর ভারত চিকেন নেক অঞ্চলে নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও যেসব অর্বাচীন হুংকার ছেড়েছিল আসলে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই তা এবারের নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গেছে। ভারতের মতো শক্তিশালী একটি দেশকে শত্রুতে পরিণত করে আখেরে যেকোনো লাভ হয় না এর জ্বলন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। ওই দেশটি ভারত বিরোধিতা করতে করতে এখন ভিখেরিতে পরিণত হয়ে গেছে। মোঃ ইউসুফ বাংলাদেশকে সেই ভিখেরির সারিতে দাঁড় করিয়ে দিতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এবার নির্বাচনে ইউনুস সহ সেই অপশক্তি গুলোকে পরাজিত করে নিজের দেশকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ থাকায় একমাত্র গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে লড়ে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। এই সরকার ক্ষমতায় ফেরার পর ভারত বিরোধী জিগির থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে কেবল তাই নয় ভারতের সঙ্গে আগের সেই মৈত্রীসুলভ সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। কথায় কথায় যারা ভারতকে দোষারোপ করত তারা এখন যথেষ্ট কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রিয় অসংখ্য মানুষ জানেন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে বাংলাদেশের লাভ ছাড়া কোন ক্ষতি নেই। নিরাপত্তার জন্য ভারতের মতো একটি শক্তিশালী দেশ বন্ধু হিসাবে পাশে থাকলে অনেক অপশক্তি বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করতে ৭ বার চিন্তা করবে।

বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর এখন ওই রাষ্ট্রটির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কিছুদিন আগেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির শিকার বাংলাদেশ এখন বদলে যেতে শুরু করেছে। শাসন ক্ষমতা গ্রহণের সময়ই বিএনপি নেতা তারেক রহমান স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছিলেন দেশে আইনের শাসন বলব থাকবে এখানে কোন বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।  ধর্মের নামে বিভেদ বা অন্য কোনও বিষয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় এমন পদক্ষেপকে দমন  করা হবে। শেখ হাসিনা ঘনিষ্ঠ ওই দেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে বহাল রাখলেও সেনাবাহিনীর অন্যান্য পদে ব্যাপক রদবদল করেছেন তারেক। সেমাই রোদ বদলের প্রধান উদ্দেশ্য হল কোন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে সেনায় যাতে বিদ্রোহ বা অদ্ভুত্থানের সুযোগ না ঘটে। তারে ক রাষ্ট্রটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একের পর এক পদক্ষেপ করতে শুরু করেছেন। মোহাম্মদ ইউনুসের আমলে অস্থায়ী সরকারের অনেক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইউনুস জামানায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলকে ফের সক্রিয় করতে ওই দলের বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্যালয়ে গুলি নিজেই খুলে দিচ্ছেন তারেক। উদ্দেশ্য হল দেশের ভিতর গণতান্ত্রিক পরিবেশকে শক্তিশালী করে তোলা। আপাত দৃষ্টিতে তারেকের ভূমিকা ওই রাষ্ট্রটির যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছিল ইউনূসের জমানায় তা পুষিয়ে নতুন করে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে গতিশীল করে তোলা।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ভারত সু-প্রতিবেশী সুলভ মনোভাব সবসময়ই দেখিয়ে এসেছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  শোকবার্তা পাঠিয়ে খালেদার ছেলে তারেক রহমানকে ভারতের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বলা হয়। বাংলাদেশী নির্বাচনের পর বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সময় উপস্থিত থাকতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত না হলেও ভারতের লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং বিদেশ মন্ত্রী  জয়শংকরকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাঠান। তারেকের শপথ গ্রহণ যাতে মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে সেজন্যই ভারতের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ। ওই অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয় দুটি দেশের মধ্যে যে স্বাভাবিক সম্পর্ক আগে ছিল তা পুনরায় প্রতিষ্ঠার  ক্ষেত্রে ভারত সবসময়ই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা প্রধানমন্ত্রী দূত হিসাবে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকারে ভারতের পক্ষ থেকে যে বার্তা বাংলাদেশের নতুন সরকারকে দেওয়া হয় তাতে ওই সরকারের প্রতিনিধিরা যথেষ্ট স্বস্তির পরিবেশ খুঁজে পেয়েছেন। কারণ, এর আগে মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারের আমলে দুটি দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্কের কিছুটা ক্ষতি হয়েছিল। ওই সময় ওই দেশের ভিতর ভারত বিদ্বেষী বাতাবরণ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল যদিও সে দেশের অধিকাংশ মানুষ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষপাতি। তাই তারা এবারের নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় এনেছেন যারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। নির্বাচনে জুলাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং জামায়েতকে খুব একটা পাত্তা দেননি সে দেশের জনগণ। যদিও জামাত পেশ কতগুলি আসনে বিজয়ী হয়েছে এর পিছনে অন্য কারণ রয়েছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। অবশ্য এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার সে ব্যাপারে ভারতের কোন মন্তব্য করার ঠিক নয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ভারতের সঙ্গে কোন ধরনের সংঘাতে যাওয়ার পক্ষপাতী নয়। তারা চান ভারতের সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক বজায় রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করে দুটি দেশ এই উন্নয়নের যাত্রায় এগিয়ে যাক। তারেক ক্ষমতায় বসার পর পাক প্রীতি থেকে সরে এসে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কটা স্বাভাবিক করে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তার পদক্ষেপ গুলি ভারত বাংলা সম্প্রীতির পথকে প্রশস্ত করার দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে কলকাতা আগরতলা মৈত্রী বাস সার্ভিস পুনরায় শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের আমলে এটা ছিল সম্পূর্ণভাবেই বন্ধ। এই বাস সার্ভিস চালুর মধ্য দিয়ে দু’দেশের মধ্যে মৈত্রীর সম্পর্ক মজবুত করার একটা গভীর বার্তা রয়েছে।

নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেছিলেন ইউনুসের আমলে সমস্ত কর্মকাণ্ড বেআইনি ছিল। তাকে অন্ধকারে রেখে দেশ পরিচালনার কাজটি করে গেছেন ইউনুস। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ইউনুসের প্রধান লক্ষ্য ছিল। এই ঘটনার জেরে বাংলাদেশের বিরোধী নেতা জামায়াতের শফিকুর রহমান রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। শফিকুল সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন ২০২৪ সালের ৫ আগ স্ট দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয় নিয়ে অনেক ঘটনায় তিনি চেপে গিয়েছেন। দেশবাসীর সামনে তিনি যে বিবৃতি দিয়েছিলেন এখন তিনি সেই বিবৃতি দেননি বলে চালিয়ে যেতে চাইছেন। জামায়াতের সঙ্গে তার এখানেই সংঘাতের সূচনা ঘটেছে বলে ধরে নিতে হবে। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন ইউনুসের উপর তাপ দেগে বলেছিলেন তাকে প্রদচ্যুত করার জন্য ইউনুস বেশ কয়েকবার চাল চেলে ছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেননি। শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকারের আমলে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত বলেই তাকে সরানোর চক্রান্ত করা হয়। ওই দেশে পালাবদল হওয়ার পর শাহাবুদ্দিন পূর্বের ঘটনাগুলি জনসমক্ষে তুলে ধরছেন। শাহাবুদ্দিনের বক্তব্যকে অসত্য বলে ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। মোঃ ইউনূসের কার্যকলাপ ওই রাষ্ট্রটির পক্ষে মোটেই ভালো ছিল না। ইউনুসের অদূরদর্শিতার জন্যই বাংলাদেশের প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়েছেন, দরিদ্র সীমার নিচে নেমে এসেছে আরো কয়েক লক্ষ মানুষ। দেশের আর্থিক অবস্থাও সংকট পূর্ণ হয়ে ওঠে। খাদ্যপণ্যের আকাশ ছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তোলে। এখন এসবের ক্ষেত্রে কিছু কিছু পরিবর্তন ঘটতে শুরু হয়েছে।

শিল্পী সাহিত্যিকদের উপর বাংলাদেশে যে অত্যাচার নেমে এসেছিল এর পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ইউনূসের আমলে শিল্প সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা শিল্পীদের সড়কে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছিল যদিও এ নিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সাহিত্য সংস্কৃতি ও শিল্পের জগতে একটা অনিশ্চয়তার কালো ছায়া নেমে এসেছিল। তারেক ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রথমেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন ধর্ম, ভাষা -সংস্কৃতি ইত্যাদির নামে কোন ধরনের বিভেদ সহ্য করা যাবে না। বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে একুশের সংস্কৃতি মেলা উদ্বোধন করেছেন। বাংলাদেশে সারা বছরই সংস্কৃতি সংগীত মেলা ও শিল্প মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন ঘরানার সংগীত শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা এইসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এর মধ্যে কিছু মুক্তমনা মানুষও যুক্ত রয়েছেন। প্রত্যেকের রাজ্য অধিকার কে স্বীকৃতি দিয়েছেন তারেক। তার বক্তব্যে স্পষ্টই ফুটে উঠেছে কোন বৈষম্য নয় সবাইকে নিয়ে চলার পথেই তিনি হাঁটতে চান।

বাংলাদেশে এখন একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল সরকার ক্ষমতায় থাকার সুবাদে ভারতের সঙ্গে যে যে বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল অথবা দ্বীপাক্ষিক ক্ষেত্রে যেসব প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ শেখ হাসিনার আমলের নেওয়া হয়েছিল সেগুলি পুনরায় সচল হয়ে ওঠার আশা জাগতে শুরু করেছে। হাসিনার আমলে দু দেশের মধ্যে মৈত্রী ট্রেন বা মৈত্রী বাস চলাচল শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে এই যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। এতে উভয় দেশের সাধারণ মানুষ যেমন উপকৃত হয়েছিলেন তেমনি দুটি দেশের সরকারও বাণিজ্যিক দিক থেকে কিছুটা লাভবান হয়েছিল। কারণ রেল চলাচলের মধ্যে দিয়ে খাদ্য পণ্য পাঠানোর যে সুবিধা অন্যান্য মাধ্যমে পাঠানোর  ক্ষতিকর। হাসিনার আমলে উত্তর পূর্বাঞ্চলে খাদ্যপূর্ণ পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের রুট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল যদিও এক্ষেত্রে অধিকাংশ স্থান সড়ক পরিবহনের মাধ্যমেই পূরণ করা হয়েছিল। তবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের অন্য অংশে যোগাযোগ সচল করার জন্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে রেললাইন করে তোলার যে পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছিল এর কাজ অনেক দূরে গিয়েও গিয়েছিল। সেটা ইউনুসের আমলে থমকে দাঁড়ায়। এবার বিএনপি সরকারের আমলে সেই থমকে দাঁড়ানো কাজটি পুনরায় সচল হতে পারে বলে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। যদিও সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে রাতারাতি সবকিছু বদলে যাবে এমন আশা করাটা ঠিক নয়। আর তারেকের হাতে এমন কোন জাদু দন্ড নেই যে রাতারাতি তিনি সব কিছু পাল্টে দিতে পারবেন। তোমার সঙ্গে সঙ্গে আস্তে আস্তে এই যৌথ প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রসারিত হতে পারে এর লক্ষণ ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যত গভীর হবে ততই উপকৃত হবে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক এমনকি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মৈত্রী সম্পর্ক রক্ষা করে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। কিছু অর্বাচীনের শিশুসুলভ হুংকার এবং কথাবার্তা মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আমজনতার প্রকৃত ইচ্ছের কোন প্রতিফলন ঘটে না।
(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *