১ মার্চ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিল ইরান। আর এবার সেই পালটা নজিরবিহীন আক্রমণ শুরুও হয়ে গেল।
তেহরানের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও জর্ডন সহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মোট ১৪টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)-র তরফে জানানো হয়েছে, এই ভয়াবহ আক্রমণে কয়েকশো মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বাহরিনের জুফেইরে মার্কিন নৌসেনা ঘাঁটি, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং জর্ডনের মুয়াফ্ফক অল-সালতি ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু আছড়ে পড়েছে ক্ষেপণাস্ত্র। স্থানীয় বাসিন্দারা বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এটি কেবল শুরু; বাকি ঘাঁটিগুলিও তাদের নিশানায় রয়েছে।
যুদ্ধের আবহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। ইজরায়েল ও আমেরিকা তাঁর মৃত্যুর খবর দাবি করার পর, প্রথমে ইরান তা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে সরকারিভাবে খামেনেইর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।
ইরানের এই ‘সবচেয়ে ভয়ংকর সামরিক অভিযানের’ জেরে বিশ্বজুড়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়াও দুই পক্ষকে সংযত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, খামেনেই হত্যার বদলা নিতে তারা এই আক্রমণ জারি রাখবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে এক মহাযুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।




