ইকবাল লস্কর, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ ফেব্রুয়ারি: বিভিন্ন মহলের মানুষের উপস্থিতিতে বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক সঞ্জয় রায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হল। শুক্রবার সকালে তাঁর পার্থিব দেহ ইটখলার বাড়ি থেকে প্রথমে শিলচর প্রেস ক্লাবে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রেস ক্লাব সচিব শংকর দে, বরিষ্ট সাংবাদিক তমোজিৎ ভট্টাচার্য, রাণু দত্ত, পীযূষনাথ প্রমুখ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে সতীন্দ্রমোহন দেব মেমোরিয়াল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে থাকা বরাক উপত্যকা ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার (বাকস) কার্যালয়ের সামনে সঞ্জয় রায়ের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাকসের কেন্দ্রীয় সভাপতি রতন দেব, ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সচিব কিঙ্কর দাস, প্রাক্তন সচিব তাজ উদ্দিন, দ্বিজেন্দ্রলাল দাস, কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি দেবাশিস সোম, অভিজিৎ ভট্টাচার্য, সায়ন বিশ্বাস, উত্তমকুমার সাহা, অভিজিৎ দেব, শুভদীপ দত্ত, বেদব্রত ব্যানার্জি, সঞ্জীব সিং, সত্যজিৎ শুক্লবৈদ্য, নুরুল হুদা লস্কর, বার্তালিপির বার্তা সম্পাদক দেবাশিস পুরকায়স্থ, সাংবাদিক দেবাশিস চক্রবর্তী প্রমুখ। প্রসঙ্গত, সঞ্জয় রায় বিভিন্ন সময়ে বাকস-এর বিভিন্ন পদে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ডিএসএ কার্যালয়ের সামনে সভাপতি শিবব্রত দত্ত, সহসচিব অরিজিৎ গুপ্ত প্রমুখ তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানান। উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ বুদ্ধদেব চৌধুরী সহ অন্যরা। এছাড়াও টাউন ক্লাবের পক্ষে সহসভাপতি সুজন দত্ত, শিলচর ভেটেরন ক্রিকেটার্স ক্লাবের পক্ষে সচিব দীপঙ্কর দত্ত সঞ্জয় রায়কে শেষ শ্রদ্ধ নিবেদন করেন।

শিলচর শ্মশানঘাটে দুপুর দেড়টা নাগাদ সঞ্জয় রায়ের পার্থিব দেহ চিতায় তোলা হয়। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, বার্তালিপির কর্ণধার রুদ্র নারায়ণ গুপ্ত, কার্যনির্বাহী সম্পাদক প্রণবানন্দ দাশ, সিনিয়র সাংবাদিক পার্থ ভট্টাচার্য, বাকস সদস্যদের মধ্যে বিশ্বনাথ হাজাম, সুদীপ সিং, তাজ উদ্দিন , ইকবাল বাহার লস্কর প্রমুখ। উল্লেখ্য, ক্রীড়া সাংবাদিক সঞ্জয় দীর্ঘ রোগভোগের পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ শিলচরের এক নার্সিংহোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। রেখে গেছেন বাবা সুকুমার রায়, স্ত্রী সংহিতা রায়, দুই মেয়ে, দুই ভাই সহ অসংখ্য গুণমুগ্ধকে।

বার্তালিপির ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন সঞ্জয়। ১৯৯০-এর দশক থেকে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। দৈনিক যুগশঙ্খ ও অধুনালুপ্ত দৈনিক জনকণ্ঠ কাগজে তিনি ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রান্তজ্যোতি দৈনিকেও বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন কিছুদিন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্রীড়া, সংবাদজগত সহ পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। মূল বাড়ি ধলাই বিধানসভা এলাকার হাওয়াইথাংয়ে হলেও দীর্ঘদিন ধরে শিলচর ইটখলা কালীবাড়ি রোডের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন সঞ্জয় রায়। ১৯৭০ সালের ৩ এপ্রিল তাঁর জন্ম।
সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত বার্তালিপি পরিবার। বার্তালিপি দৈনিকের কর্ণধার রুদ্র নারায়ণ গুপ্ত, শিলচর নগর কংগ্রেসের সভাপতি তথা ক্রীড়া সংগঠক অতনু ভট্টাচার্য, বরাক উপত্যকা ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার (বাকস) কর্মকর্তা, বদরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি যীশু শুক্লবৈদ্য, ক্রীড়া সাংবাদিক ইকবাল বাহার লম্বর সহ অনেকেই শোক ব্যক্ত করেছেন।



