বাল্যবিবাহ মুক্ত দেশ গড়াই লক্ষ্য সরকারের : সাংসদ কণাদ

Spread the news

মেয়েদের মধ্যে বাল্যবিবাহের হার ৮৪ শতাংশে হ্রাস পেয়ে দেশের শীর্ষে রাজ্য

বরাক তরঙ্গ, ২৭ ফেব্রুয়ারি : বাল্যবিবাহ মুক্ত দেশ গড়াই লক্ষ্য সরকারের। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাল্যবিবাহ রোধে আইনি ব্যবস্থা কার্যকরের সঙ্গে প্রয়োজন গণসচেতনতা। এই মন্তব্য করেন রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। শুক্রবার শিলচরে বাল্যবিবাহ মুক্তি রথের ফ্ল্যাগ অফ করেন তিনি। এসম্পর্কে গণ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কাছাড়ের গ্রাম গ্রামান্তরে যাবে এই রথ। মাসব্যাপী চলবে এই অভিযান।

এ উপলক্ষে শহরের নরসিংটোলা ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ আরও বলেন,বিগত দিনে বাল্য বিবাহ রোধের কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ হয়নি। কিন্তু আজকের দিনে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার এবং রাজ্যের হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকার বাল্যবিবাহ রোধে আইনি ব্যবস্থাকে কঠোর ভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব আরোপ করছে। এরই অঙ্গ হিসেবে শুক্রবার থেকে কাছাড় জেলায় যাত্রা শুরু হল বাল্যবিবাহ মুক্তি রথের।

সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই দেশে বাল্যবিবাহ নির্মুল করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাল্যবিবাহের প্রবণতা থাকা দেশের এক লক্ষ গ্রামকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সব বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা গড়তে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বেটি বাঁচাও -বেটি পড়াও ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দেশে কন্যা ভ্রূণ হত্যা এবং শিশুকন্যাদের শিক্ষাদান। এর ফলে দেশে এখন ভ্রূণ হত্যা হ্রাস হচ্ছে এবং শিক্ষায় অগ্রগতি হচ্ছে।

একইভাবে বাল্যবিবাহ রোধে এবং শিশুকন্যার শিক্ষার্জনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাজ্যে “নিযুত ম ইনা” প্রকল্প চালু করা হয়েছে অসমে। যাতে  অর্থাভাবে শিক্ষার্জন থেকে বঞ্চিত না হয় শিশুকন্যারা। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ শিকার না হয় তারা। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই পদক্ষেপের ভূয়শী প্রশংসা করেন সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহের নেপথ্যে রয়েছে আর্থ সামাজিক অবস্থা এবং সচেতনতার অভাব। তাই কন্যা ভ্রূণ হত্যা এবং বাল্য বিবাহ রোধে আর্থিক সহায়তার সঙ্গে সচেতন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এসম্পর্কে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়ায় আজকের দিনে মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার ৮৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দেশে শীর্ষে রয়েছে অসম। শিশু সুরক্ষার জন্য কাজ করা ২৫০টিরও বেশি এনজিও এই কর্মসূচিকে সফল করতে সরকারকে সহযোগিতা করছে। তিনি জানান, সারা দেশে আজকের দিনে মেয়েদের মধ্যে বাল্যবিবাহ ৬৯ শতাংশ এবং ছেলেদের মধ্যে ৭২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে সরকার বাল্যবিবাহ মুক্ত দেশ গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই

এবিষয়ে গণসচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ উল্লেখ করেন যে আইন ও গণ সচেতনতার সঙ্গে বাল্যবিবাহ রোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই বাল্য বিবাহ মুক্ত গ্রাম, জেলা, রাজ্য ও দেশ গঠন হবে।

এর আগে বক্তব্য প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সমাজকর্মী রোজকান্দি চা বাগানের সঞ্চালক ঈশবরবাই উবাদিয়া বলেন, রোজ কান্দি চা বাগানকে বাল্যবিবাহ মুক্ত চা বাগান হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বাগানকে বাল্যবিবাহ মুক্ত কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং জনগণের সহযোগিতা পেয়েছেন, এর ইতিবৃত্ত তুলে ধরেন তিনি। প্রাসঙ্গিক বক্তব্য পেশ করেন দক্ষিণ অসমের ডিআইজি জয়শ্রী খেসরা। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে আইন রয়েছে। তবে আইন প্রয়োগ করেই সমাজ থেকে বাল্যবিবাহের ব্যাধি মুক্ত করা সম্ভব নয়। গণসচেতনতা অতি আবশ্যক সেকথাও তুলে ধরেন তিনি।শুরুতে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন আরেক সমাজকর্মী বিজয় পাল। উপস্থিত ছিলেন সামাজিক সংস্থা উদীচীর কাছাড় জেলা সমন্বয়ক সুরোজ পাল। কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ কর্মসূচির অধীনে উদীচীর উদ্যোগে এবং টিম ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আজ থেকে যাত্রা শুরু হয় বাল্যবিবাহ মুক্তি রথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *