কার্গিল যুদ্ধে শহিদ নন্দচাঁন্দ সিংহের পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন

Spread the news

কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ ফেব্রুয়ারি: কার্গিল যুদ্ধে শহিদ লক্ষীপুরের শ্রিবার গ্রামের বীর সন্তান নন্দচাঁন্দ সিংহের পূর্ণাবয়ব মূর্তি আজ তার জন্মদিনে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। শহিদের নামাঙ্কিত নন্দচাঁন্দ সেতুর পাশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শহিদের বৃদ্ধা মা বৃন্দা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন লক্ষীপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৌশিক রায়। মূর্তি উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৌশিক রায় বলেন, শহিদ নন্দচাঁন্দ সেতুর পাশে শহিদের মূর্তি স্থাপন করা তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল এবং আজ তা বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, লক্ষীপুরের এক সাহসী সন্তান দেশমাতৃকাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন—এটি সমগ্র এলাকার জন্য গর্বের বিষয়।

জানা যায়, নন্দচাঁন্দ সিংহ মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত চলা ওই যুদ্ধে ২ জুলাই পাকিস্তানি সেনার গুলিতে তিনি শহিদ হন। তার এই আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহিদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে লক্ষীপুরের রাজারগ্রামে চিরিনদীর উপর নির্মিত সেতুর নামকরণ করা হয়েছে শহিদ নন্দচাঁন্দ সেতু। কৌশিক রায় জানান, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তার অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল এই সেতুর অসমাপ্ত নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা। বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দ্রুত এই সেতুর কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি ড. হিমন্ত বিশ্বশর্মা এখানে এসে সেতুর শিলান্যাস করেন। পরে ২০২৪ সালের ১ মার্চ ভার্চুয়ালি সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। শহিদের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতেই সেতুর নামকরণ ও মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মূর্তি স্থাপনের জন্য জমি দানকারী বলদেব সিংহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কৌশিক রায় বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলের প্রতি তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *