দীর্ঘ ২২ বছর পর মুন্না মজুমদার হত্যাকাণ্ডের রায়দান, ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Spread the news

রূপক চক্রবর্তী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৫ ফেব্রুয়ারি : দীর্ঘ ২২ বছর পর অবশেষে বিচার পেল শিলচরের বহুল আলোচিত মুন্না মজুমদার হত্যাকাণ্ড। কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা ও সেশন বিচারক (ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট) বঙ্কিম শর্মার আদালত বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণা করে ধনরাজ সুরানা (৫৫), রিঙ্কু দেব ওরফে মধুসূদন (৪৩) এবং রতন দেবনাথ (৪০)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের ৫ নভেম্বর শিলচরের শিবকলোনি এলাকার বাসিন্দা যুবক মুন্না মজুমদারের মৃতদেহ শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উদ্ধার হয়। ঘটনার পরপরই মুন্নার পরিবার হত্যার অভিযোগ তোলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসন কার্ফু জারি করতে বাধ্য হয়। বিভিন্ন সংগঠনও আন্দোলনে নামে।

ধনরাজ সুরানা শিলচরের জানিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং ‘সুরানা টেক্সটাইল’ নামে একটি বস্ত্র ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক। রিঙ্কু দেব ও রতন দেবনাথ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ছিলেন। নিহত মুন্না মজুমদারও একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। মুন্নার বোন রত্না মজুমদার সদর থানায় ধনরাজ, রিঙ্কু ও রতনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর রাতে প্রতিষ্ঠানের কর্মী রিঙ্কু তাদের বাড়িতে গিয়ে জানায় মুন্না গুরুতর অসুস্থ এবং তাকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছালে ধনরাজ, রিঙ্কু ও রতন তাদের জানান মুন্নার চিকিৎসা চলছে এবং তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। তবে পরে সন্দেহ হওয়ায় পুনরায় হাসপাতালে গেলে অভিযুক্তরা কোনও উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালের বারান্দায় মুন্নার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর আদালত ধনরাজ সুরানা, রিঙ্কু দেব ও রতন দেবনাথকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এই মামলায় সরকারপক্ষের আইনজীবী ছিলেন প্রদীপ কুমার পাটোয়া এবং অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অশোক রায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *