বরাক তরঙ্গ, ২৪ ফেব্রুয়ারি : এআইডিওয়াইও’র অসম রাজ্য কমিটি উদ্যোগে ভয়াবহ বেকার সমস্যার সমাধান, উপযুক্ত হারে বেকার ভাতা প্ৰদান করা সেই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষার প্ৰশ্নপত্র ফাঁস হওয়া এবং নিয়োগ দুৰ্নীতির বিরুদ্ধে সুনিৰ্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্ৰহণ করা সহ ৯দফা দাবিতে মঙ্গলবার গুয়াহাটির জয়ন্ত কুমার-লখিমি বরুয়া সদনে যুব সমাবেশের আয়োজন করে। দেশব্যাপী উল্লেখিত দাবির ভিত্তিতে গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকপত্ৰ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রদানের অঙ্গ হিসেবে অসম রাজ্যেও গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকপত্র রাজ্যপালের মাধ্যমে প্ৰধানমন্ত্রীর প্ৰেরণ করার লক্ষ্যে এই যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এআইডিওয়াইও’র রাজ্য কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

সভায় উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক বিরিঞ্চি পেগু। সমাবেশত নিৰ্দিষ্ট বক্তা হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এসইউসিআই (সি) দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সবুর। তিনি বলেন, দেশে ক্ৰমাগত বৃদ্ধি পাওয়া বেকার সমস্যা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। কেন্দ্ৰীয় সরকারের ৭৮টা বিভাগীয় মন্ত্ৰালয়ে প্রায় দশ লক্ষাধিক পদ শূণ্য আছে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগেও বহু শূণ্য পদ রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের সব রাজ্যেই প্রায় একই। তাছাড়াও দুৰ্নীতি, প্ৰশ্নপত্র ফাঁস, শ্রমিক-কৰ্মচারীর ছাটাই এবং সরকারি বিভাগ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পোদ্যোগ- কলকারখানা ব্যক্তিমালিকের হাতে তুলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আরও অধিক জটিল করে তুলেছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী প্ৰতি বছর দেশে ২ কোটি যুবক-যুবতীকে চাকরি প্ৰদান করার প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়েছিলেন। দেশবাসীর প্ৰয়োজনের উপরে ভিত্তি করে প্ৰত্যেক মানুষের হাতে তাদের ক্ষমতা এবং সামৰ্থ্য অনুসারে কাজ প্রদান করা সরকারের দায়িত্ব। সেই প্ৰয়োজন পূরণে আমাদের দেশে যথেষ্ট সম্পদ আছে। এর ফলে বেকার সমস্যা এবং ভয়াবহ আৰ্থিক সংকট, মানসিক

বিষণ্ণতা, পারিবারিক সম্পৰ্কে ভাঙন ও ড্ৰাগস আসক্তির জন্যেই যুবক-যুবতীদের মধ্যে অপরাধমূলক প্ৰবণতা দ্ৰুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারও পরে প্ৰতি বছর হাজার হাজার যুবক-যুবতী আত্মহত্যা করছে, কেবল ২০২৩ সালে ১৪,২৩৪ টা আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে এই সকল সমস্যার মূল কারণ যে বৰ্তমানে পরিচালিত পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা। এই পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্ৰিক আন্দোলন নতুন চেতনার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।
তাছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি জিতেন্দ্ৰ চলিহা। সর্বশেষে পাঁচ জনের এক প্ৰতিনিধি দল রাজভবন গিয়ে নয় দফা দাবির ভিত্তিতে গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকপত্র রাজ্যপালের মাধ্যমে প্ৰধানমন্ত্ৰীর উদ্দ্যেশ্যে প্রদান করা হয়।



