শিবপুর জিপিতে ৩০টি গ্রামীণ রাস্তার কাজের সূচনা সোনাই বিধায়কের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২১ জানুয়ারি : বুধবার দিনভর বাঁশকান্দি ব্লকের শিবপুর জিপি এলাকায় লালমাটি ফেলে ৩০টি গ্রামীণ রাস্তার কাজের সূচনা করেন সোনাইয়ের বিধায়ক করিম উদ্দিন বড়ভূইয়া। এ উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে সোনাই এলাকায় গ্রামোন্নয়নের কাজ কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। নাম উল্লেখ না করে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর হস্তক্ষেপের ফলে গ্রামোন্নয়নের কোনও কাজে হাত দিতে পারেননি নির্বাচিত পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিরা। জোরজুলুম ও হুমকির মাধ্যমে কাজ না করেই ঘনিষ্ঠদের দ্বারা অর্থ তুলে নেওয়া হতো। ইচ্ছা থাকলেও পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত হতে পারেননি।

তিনি জানান, চলতি পাঁচ বছরে কমিশন প্রথা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্কৃতি ফিরে এসেছে। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন এবং সোনাই ও বাঁশকান্দি ব্লকের জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের অধিকার ফিরে পেয়েছেন। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁরা নির্বিঘ্নে উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সোনাই এলাকার রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিধায়ক আরও বলেন, তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সরকারিভাবে সম্ভব না হলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্বাচনের আগে ১৮টি জিপিতে মিলিয়ে এক হাজার গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ করবেন। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পক্ষকাল আগে দক্ষিণ সৈদপুর জিপি থেকে কাজের সূচনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সোনাই ও বাঁশকান্দি ব্লকের বিভিন্ন জিপিতে কাজ এগিয়ে চলছে এবং আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে। পরবর্তী সময়ে এই রাস্তাগুলিতে এমজিএনরেগা ও সিসি ব্লক বসানো হবে বলেও তিনি জানান।

এদিন শিবপুর জিপিতে একাধিক রাস্তায় লালমাটি ফেলে কাজের সূচনা করে বিধায়ক বলেন, সুস্থ কর্মসংস্কৃতির ফলে দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি জিপির জনপ্রতিনিধিরা তাঁকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, গত বছর শিবপুরে ইএনডি বাঁধ ভেঙে বন্যার জলে শেখপাড়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। বন্যা পরবর্তী সময়ে বাঁশ দিয়ে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে যে কোনও উপায়ে ভাঙন প্রতিরোধের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাজও করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এছাড়াও শিবপুর সড়কের এক কিলোমিটার অংশের কাজ আগামী মার্চের মধ্যেই শেষ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন বিধায়ক। এদিন বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিবপুর জিপির সভাপতি সাহাজান হক লস্কর, এপি সদস্য লুৎফুর রহমানসহ জিপির গ্রুপ সদস্যরা এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *