বরাক তরঙ্গ, ১৪ জানুয়ারি : রবিবার কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন, আর বুধবারই দল ত্যাগ করলেন রেজাউল করিম সরকার। অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির কাছে এক বিস্ফোরক পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে কংগ্রেস ছাড়ার ঘোষণা করেন তিনি। পদত্যাগপত্রে রেজাউল করিম সরকার উল্লেখ করেন, নগাঁওয়ের সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ এবং বিরোধী বিধায়ক দেবব্রত শইকিয়ার মন্তব্যের কারণেই তিনি কংগ্রেস দল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। পদত্যাগপত্রে দেবব্রত শইকিয়া ও প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রেজাউল করিম সরকার। দেবব্রত শইকিয়া তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর এজেন্ট বলে আখ্যা দেওয়ায় তিনি গভীর দুঃখ ও ক্ষোভের কথা জানান। রবিবার যোগদানের দিনই শিবসাগরকে ধুবুড়ির সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য রাখার পর রাজ্যজুড়ে বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রেজাউল করিম সরকার। তিনি প্রদ্যুৎ বরদলৈ ও বিরোধী দলপতি দেবব্রত শইকিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। পদত্যাগপত্রে রেজাউল করিম সরকার স্পষ্টভাবে বলেন, “জাতির চেয়ে কখনও দল বা ব্যক্তি বড় নয়।”
তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সমাজের দিকে তাকিয়ে, কখনও মেরুদণ্ড নত না করে জাতির স্বার্থে জাতির মেরুদণ্ড সোজা করে রাখাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল। বিধায়ক বা নেতা হওয়া কখনও তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল না। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বিজেপির এজেন্ট বলে যাঁদের তিনি অভিহিত করেছেন—তেমন দেবব্রত শইকিয়ার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা কোনওভাবেই সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রেজাউল করিম সরকার জানান, অসম ও অসমিয়ার স্বার্থে, সব জাতি-জনগোষ্ঠীর সম উন্নয়ন, সম মর্যাদা ও সম বিকাশ নিশ্চিত করে অসমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু যোগদানের দিনই বৃহত্তর অসম ও সম্প্রীতির বার্তা দিতে গিয়ে কিছু ‘ছদ্মবেশী কংগ্রেস নেতা’ ইচ্ছাকৃতভাবে বিজেপির ফাঁদে পা দিয়ে জাতিকে অপমান করেছেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দেবব্রত শইকিয়ার মতো কিছু বিজেপির এজেন্ট দলটিকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে ধ্বংস করছে। তারা যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে দিচ্ছে না এবং অসমে একটি শক্তিশালী ধর্মনিরপেক্ষ বিকল্প সরকার গঠনের পথ রুদ্ধ করে রেখেছে।
এই সব বিষয় উপলব্ধি করার পর নিজের বিবেককে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে তিনি যে রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছিলেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান রেজাউল করিম সরকার। গত বিশ বছর ধরে কোনও রকম আপস না করে, কারও কাছে মাথা নত না করে তিনি জাতীয় সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন। সেই নীতি ও আদর্শে অবিচল থেকেই এবারও কোনও আপস ছাড়াই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাঁর আত্মসম্মান এবং বিগত বিশ বছরের সংগ্রামের দিকে বিজেপির হয়ে কাজ করা কেউ আঙুল তুলবে—এটা তাঁর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। প্রদ্যুৎ বরদলৈকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের জাতীয় সংগঠনের সভাপতিকে না চিনলেও আসন্ন সময়ে সংখ্যালঘু সমাজ ভোটের মাধ্যমে তাঁকে চিনিয়ে দেবে।
আগামী দিনে অসমের সংখ্যালঘু জনগণ এবং তিনি যে সংগ্রামী পরিবারটি ছেড়ে এসেছেন, তারাই তাঁর ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আপাতত কোনও রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা করছেন না বলেও জানান রেজাউল করিম সরকার এবং এই মুহূর্তে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।



