বরাক তরঙ্গ, ১২ জানুয়ারি : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসএস সেলের উদ্যোগে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় যুব দিবস পালন করা হয়। সোমবার সকাল ৬-৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়, শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ, ডিন অব স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ড.জয়দীপ পাল, এনএসএসের কর্মসূচি সমন্বয়ক ড. রাজর্ষী কৃষ্ণ নাথ, অন্যান্য এনএসএস এর কর্মকর্তারা প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এরপর শুরু হয় “রান ফর স্বদেশী” শীর্ষক একটি দৌড়। এতে অংশগ্রহণ করে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসএস-এর স্বেচ্ছাসেবক ও এনসিসির ক্যাডাররা। মিছিল শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিবেকানন্দ রোড, চার্চ রোড, অম্বিকা পট্টি হয়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। এরপর সূর্য নমস্কার অনুশীলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় সহ অন্যান্য উপস্থিত সদস্যরা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় সূর্য নমস্কার প্রতিযোগিতা।
এতে প্রথম স্থান অধিকার করে প্রীতি দাস, দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে তানিয়া রাজকুমারী ও শুভম ভট্টাচার্য ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যৌথভাবে অভ্রজিত দেবনাথ ও রঞ্জিত বৈষ্ণব।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সকাল ন’টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে উপাচার্যের পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত হয় স্বামী বিবেকানন্দ বক্তৃতা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শুরুতে দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করে পদার্থবিদ্যা বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র বিশ্বেশ্বর দেব। এরপর বাংলা বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র সদয় দাস, স্বামী বিবেকানন্দের উপর লেখা স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে। এরপর শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ, স্বামী বিবেকানন্দের বিভিন্ন বাণীর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বিবেকানন্দের বাণী জানলে বা শুনলেই হবে না, বিবেকানন্দের আদর্শকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করলে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের জীবনকে এক শ্রেষ্ঠ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, ৫ হাজার বছরের পুরনো সভ্যতা সংস্কৃতির দেশ ভারত বর্ষ একসময় বিশ্বের প্রথম সারিতে ছিল। তিনি ভারতের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হয় কিন্তু পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ থাকার সময় স্বামী বিবেকানন্দ ভারতবর্ষের ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসান। তিনি আরো বলেন যে আজকের ভারতবর্ষ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে। আমাদের সম্পদ আমাদের যুব জনসংখ্যা। এই বিশাল সংখ্যক যুব জনসংখ্যা যদি স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে পারে তাহলে খুব শীঘ্র ভারত আবার বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করবে। এই পর্বের অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন সরকারি অধ্যাপক অভিজিৎ জয়সোওয়াল। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে এ পর্বের অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক বামন কিরী রংপী।



