রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৯ জানুয়ারি : ধলাই বিধানসভা এলাকার রাজঘাটে মসজিদ কমিটির মাদকবিরোধী কঠোর সামাজিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে মাদক কারবারিদের অতর্কিত হামলায় অন্তত ১২জন মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে। ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দক্ষিণ ধলাই মসজিদ সমন্বয় কমিটির এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজঘাট এলাকার মসজিদ কমিটি কয়েকটি চিহ্নিত মাদক কারবারি পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক বিধি নিষেধ কার্যকর করে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে একটি মাদকচক্র ও তাদের সহযোগীরা।
উল্লেখযোগ্য, ধলাই মসজিদ সমন্বয় কমিটির অধীনে মোট ৭২টি মসজিদ রয়েছে। মাদক নির্মূলে কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে বয়কট, জানাজায় অংশগ্রহণ না করা, এবং একাধিক কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপর দুষ্কৃতকারীরা আচমকা হামলা চালায়। এতে বহু মানুষ আহত হন এবং পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার পর ধলাই থানায় ১১ জনকে সনাক্ত করে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ জানুয়ারি রাতে এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় পিকনিক চলাকালীন এক মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিচে পড়ে মারা যান। ওই ঘটনায় এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নেননি। স্থানীয়দের মতে, শুক্রবারের এই হামলা সেই ঘটনারই প্রতিক্রিয়া।
দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, দক্ষিণ কাছাড়ে দিন দিন বেড়ে চলেছে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক ব্যবসা। পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও গোপনে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী কালো সাম্রাজ্য, যা সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করে তুলছে।



