কবীন্দ্র পুরকায়স্থের প্রয়াণে শোকসভা গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৯ জানুয়ারি : অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ভারতীয় জনতা পার্টির বরিষ্ঠ নেতা কবীন্দ্র পুরকায়স্থের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়। শুক্রবার প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়, নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎকান্তি পাল, শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মচারীরা কবীন্দ্র পুরকায়স্থের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। কবীন্দ্র পুরকায়স্থের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অধ্যাপক ড. শঙ্কর গোস্বামী বলেন উনি শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না ছিলেন একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী। ড. শঙ্কর গোস্বামী আরও বলেন, তার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে যখন  কবীন্দ্র পুরকায়স্থ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন তখন একবার তাঁর বাসভবনে দেখা করতে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় কবীন্দ্র পরকায়স্থ তাকে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন। অধ্যাপক শঙ্কর গোস্বামী কবীন্দ্র পুরকায়স্থের আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎ কান্তি পাল তার ব্যক্তিজীবনে কবীন্দ্র পুরকায়স্থের অবদানের কথা স্মরণ করেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বিস্তারক হিসেবে কাজ করার সময় কিভাবে কবীন্দ্র পুরকায়স্থ তাদের উৎসাহিত করেছিলেন এনিয়ে বলেন। তিনি কবীন্দ্র পুরকায়স্থের কর্মজীবনের উল্লেখ করে বলেন কবীন্দ্র পুরকায়স্থের আন্তরিক সদিচ্ছায় বরাকের প্রায় প্রতিটি গ্রামে টেলিফোন পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছিল। তিনিও কবীন্দ্র পুরকায়স্থের পবিত্র আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন।

অধ্যাপক চন্দন পাল চৌধুরী বলেন “আজকে আমরা খুব ভারাক্রান্ত মনে এই শোক সভায় সমবেত হয়েছি। কবীন্দ্র পুরকায়স্থ রাজনৈতিক জীবনে এক স্বচ্ছ জায়গায় অবস্থান করেছেন। তার ছত্রছায়ায় কখনও কোন অসদ ব্যক্তি প্রতিপালিত হতে পারেনি।” তিনিও প্রয়াত আত্মার শান্তি কামনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ বলেন, তদানীন্তন গুরুচরণ কলেজের ২০১৫ সালের ন্যাক চলাকালীন সময়ে কবীন্দ্র পুরকায়স্থ প্রাক্তনী হিসেবে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। কবীন্দ্র পুরকায়স্থ ১৯৫১ সালে এই কলেজ থেকে স্নাতক হন। এত বড় মাপের একজন ব্যক্তিত্ব হওয়ার পরেও কবীন্দ্র পুরকায়স্থ অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করে গেছেন আজীবন। মহাসড়ক ও ইস্ট ওয়েস্ট করিডরের বাস্তবায়নে কবীন্দ্র পুরকায়স্থের অবদান উল্লেখযোগ্য। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শগত উত্তরাধিকার যেন আজও সবাই বহন করতে পারে। তিনি তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন। উপাচার্য অধ্যাপক  নিরঞ্জন রায় বলেন, কবীন্দ্র পুরকায়স্থের জীবন একদিকে যেমন সংঘর্ষময় অন্যদিকে তা বর্ণময় ও পরিপূর্ণ। শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে বরাক উপত্যকার রাজনীতিতে ও সমাজ জীবনে কবীন্দ্র পুরকায়স্থ বিশাল অবদান রেখে গেছেন।গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী হিসেবে তাঁকে পেয়ে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গর্বিত। টেলিকমিউনিকেশনের অগ্রগতি ও সাফল্যের ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।

অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় তার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন। আজকের শোক সভার পর থেকে আজ ও কাল দুদিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়। সভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করে শোনান নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎকান্তি পাল। সবশেষে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে সভা সমাপ্ত হয়। আজকের এই শোক সভা পরিচালনা করেন  শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *