৬ জানুয়ারি : ২০২৬ সাল থেকে সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্টের জন্য নতুন ন্যূনতম ব্যালান্স নীতি চালু করেছে। এই পরিবর্তন শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের সমস্ত গ্রাহকের উপর প্রভাব ফেলবে। জরিমানা এড়াতে এবং আর্থিক পরিকল্পনা সঠিকভাবে করতে আপডেটেড সীমা জানা অত্যন্ত জরুরি। ব্যাঙ্কগুলি এই নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করবে, তাই অ্যাকাউন্টধারীদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। এই প্রতিবেদনে নতুন সীমা, জরিমানা ও ব্যালান্স বজায় রাখার কৌশল সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হল।
সেভিংস অ্যাকাউন্টের নতুন ন্যূনতম ব্যালান্স : অবস্থানভেদে সেভিংস অ্যাকাউন্টের ন্যূনতম ব্যালান্স নির্ধারণ করা হয়েছে মেট্রো শহর ৫,০০০ টাকা,
সেমি-আরবান এলাকা ৩,০০০ টাকা ও
গ্রামীণ এলাকা ১,০০০ টাকা। এই সীমার নিচে ব্যালান্স নামলে ব্যাঙ্ক জরিমানা আরোপ করতে পারে, যদিও বেশিরভাগ ব্যাঙ্ক আগেই গ্রাহকদের সতর্কবার্তা পাঠায়। এই আপডেটের লক্ষ্য হল সঠিক ব্যালান্স বজায় রেখে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সহজ ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিশ্চিত করা।
কারেন্ট অ্যাকাউন্টের আপডেটেড সীমা
কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন ন্যূনতম ব্যালান্স নির্ধারিত হয়েছে
মেট্রো শাখা ১০,০০০, সেমি-আরবান শাখা ৭,৫০০ ও গ্রামীণ শাখা ৫,০০০ টাকা। এই নিয়মের ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে এবং অপ্রত্যাশিত সার্ভিস চার্জ এড়ানো সম্ভব হবে। ব্যবসায়ীদের উচিত অ্যাকাউন্ট কার্যক্রম ও জমা অর্থ পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা।
জরিমানার নিয়ম : ন্যূনতম ব্যালান্স বজায় না রাখলে ব্যাঙ্কগুলি জরিমানা আদায় করতে পারে। সাধারণত অ্যাকাউন্টের ধরন ও শাখার অবস্থান অনুযায়ী মাসিক জরিমানা ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অধিকাংশ ব্যাঙ্ক জরিমানা আরোপের আগে নোটিফিকেশন পাঠায়। নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকলে অপ্রয়োজনীয় কাটা টাকা এড়ানো যায়।
জরিমানা এড়ানোর উপায় হল অটো-সুইপ সুবিধা, অতিরিক্ত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিক্সড ডিপোজিটে স্থানান্তর, মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যালার্ট ব্যালান্স কমে গেলে সতর্কবার্তা
নিয়মিত মনিটরিং ও সময়মতো ডিপোজিট। এই সুবিধাগুলি অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনাকে সহজ করে।
ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের ভূমিকা
ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ন্যূনতম ব্যালান্স বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। অনলাইন ট্রান্সফার, মোবাইল ওয়ালেট ও অটো-পে সুবিধা ব্যবহার করে সহজেই প্রয়োজনীয় ব্যালান্স রাখা যায়। RBI-এর এই আপডেট ভারতের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ফলে শাখায় না গিয়েই নিয়ম মানা সহজ হচ্ছে।
গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের জন্য ন্যূনতম ব্যালান্স তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে। তবে জরিমানা এড়াতে তাদেরও অ্যাকাউন্ট নজরে রাখতে হবে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ব্যাঙ্কগুলি সহজ ও নমনীয় সমাধান দিচ্ছে। মোবাইল অ্যালার্ট ও সহজ অ্যাপ ব্যবহারে গ্রাহকরা চাপ ছাড়াই ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে অনেক ব্যাঙ্ক ন্যূনতম ব্যালান্সে ছাড় বা জরিমানা মুকুবের সুবিধা দেয়। এতে বয়স্ক গ্রাহকরা সহজে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পেতে পারেন। তবে নিয়ম ব্যাঙ্কভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
২০২৬ সালের RBI আপডেটের ফলে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও একরূপতা বাড়বে। গ্রাহকরা পরিষ্কার জরিমানা কাঠামো, উন্নত ডিজিটাল টুল ও সহজ ব্যালান্স ব্যবস্থাপনার সুবিধা পাবেন। দায়িত্বশীল ব্যাঙ্কিং আরও সহজ হবে এবং আর্থিক পরিকল্পনায় অপ্রত্যাশিত সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।



