পাথারকান্দিতে ‘২৬-এ পরিবর্তন’-এর ডাক, বিজেপির অন্দরে চা জনগোষ্ঠীর প্রার্থী দাবি

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৫ জানুয়ারি : নির্বাচন এখনও এক বছর দূরে, কিন্তু পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। আগন্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক দল বিজেপির অন্দরমহলেই এবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে পরিবর্তনের সুর। দীর্ঘদিনের অনুগত ভোটব্যাঙ্ক চা জনগোষ্ঠী সম্প্রদায় এবার আর নীরব থাকতে নারাজ। প্রার্থী মনোনয়নের প্রশ্নে প্রকাশ্যে এসে নিজেদের ন্যায্য দাবির কথা তুলে ধরছে তারা। সেই দাবির মুখপাত্র হয়ে সামনে এসেছেন অভিজ্ঞ সংগঠক ও চা জনগোষ্ঠী নেতা উত্তম রিখিয়াসন যাকে ঘিরেই এখন পাথারকান্দির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচনের আর এক বছর বাকি থাকলেও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে সমীকরণ বদলের জল্পনা। বিশেষ করে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির অভ্যন্তরেই এবার প্রকাশ্যে উঠে এসেছে ‘২৬-এ পরিবর্তন’-এর দাবি।শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি বিধানসভা সমষ্টিতে চা জনগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থী মনোনয়নের জোরালো দাবি সামনে এসেছে। এই দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিজেপির চা জনগোষ্ঠীর টিকিট প্রত্যাশী নেতা উত্তম রিখিয়াসন।সোমবার সন্ধ্যায় চান্দখিরায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে উত্তম রিখিয়াসন বিভিন্ন চা বাগানের প্রতিনিধি ও সমাজের বিশিষ্টজনদের পাশে বসে স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এই দাবি কেবল চা জনগোষ্ঠীর একার নয়। পাথারকান্দি কেন্দ্রে হিন্দু বাঙালি, বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতেই মণিপুরি, বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়সহ সব শ্রেণির মানুষই আমাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। জনগণের এই সম্মানজনক অনুরোধ উপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলেই আমি দলীয় মনোনয়নের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও জানান, দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় ইতোমধ্যেই জেলা বিজেপি সভাপতির মাধ্যমে রাজ্য বিজেপি সভাপতির কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।উত্তম রিখিয়াসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঐতিহাসিকভাবে পাথারকান্দি বিধানসভা সমষ্টিতে চা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪৫ হাজার ভোটার বিগত ৩০-৩৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বিজেপির মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই জনগোষ্ঠীর প্রার্থী হওয়ার দাবি বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। টানা তিনবার চা জনগোষ্ঠীর প্রার্থী দেওয়ার দাবি “নীরবে, নিভৃতে কাঁদছে এমনই মন্তব্য করেন তিনি।এই অবস্থায় রাজনৈতিক ক্ষমতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত চা জনগোষ্ঠীর মানুষ এবার আশাবাদী যে, দলের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে বিজেপি চা জনগোষ্ঠীর প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। গত দশ বছরে চা-বাগান এলাকায় উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উত্তম রিখিয়াসন বলেন, দেশের ব্যতিক্রমী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্যে কর্মক্ষম মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও পাথারকান্দির চা বাগান এলাকায় যতটা উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি। তিনি বিশেষভাবে কৃষিক্ষেত্রে অবহেলার কথা তুলে ধরে বলেন, কৃষকদের অবস্থা আজ সংকটজনক। স্বাস্থ্য পরিষেবা চরমভাবে বেহাল। পশু চিকিৎসা পরিষেবা প্রায় নামমাত্র। পাথারকান্দির হাসপাতাল, হাতিখিরা, ইচাবিল, তিলভূম ও চান্দখিরা সাব-সেন্টারগুলিতে বছরের পর বছর ধরে কোনও দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি। চিকিৎসক, পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে রোগীদের সামান্য জটিলতা দেখা দিলেই করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতাল কিংবা শিলচর মেডিকেল কলেজে রেফার করতে হয়।অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার দুরবস্থার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন,কাটামনিতে কোথাও আগুন লাগলে পাথারকান্দি থেকে দমকল বাহিনী পৌঁছনোর আগেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এছাড়াও রেল পরিষেবার সীমাবদ্ধতা, চা শ্রমিকদের ছাঁটাই এবং কর্মসংস্থানের সংকট নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য এগুলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, অথচ সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। উল্লেখযোগ্য যে, উত্তম রিখিয়াসন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের জেলা স্তরের কর্মকর্তা, লোয়াইরপোয়া মণ্ডলের দুই টার্মের প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি এবং বর্তমানে তিনি অসম চা জনগোষ্ঠী জাতীয় মহাসভার শ্রীভূমি জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল সংযোগ থাকা এমন একজন নেতাকেই এবার পাথারকান্দি বিধানসভা সমষ্টি থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *