বরাক তরঙ্গ, ২ জানুয়ারি : কার্বি আংলং জেলার হাওরাঘাট থানার অন্তর্গত ১ নম্বর বেলগুড়ি মুন্ডা গ্রামে ডাইনি সন্দেহকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জেলাজুড়ে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রামেরই এক মহিলা মা দুর্গা লম্ভার নির্দেশে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বলি হয়ে গার্দী বিরুয়া ও মীরা বিরুয়া নামে এক দম্পতিকে গ্রামবাসীদের একাংশ নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে শেষে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে—আধুনিক বিজ্ঞান ও সভ্যতার যুগেও সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার। জানা গেছে, গ্রামটির অধিকাংশ মানুষ অত্যন্ত দরিদ্র ও অশিক্ষিত হওয়ায় এক কমবয়সী মহিলা মা দুর্গা লম্ভার কথায় বিশ্বাস করে গ্রামে চলমান বিভিন্ন রোগব্যাধির জন্য ওই দম্পতিকে দায়ী করা হয়। এরপর একাংশ গ্রামবাসী হাতে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতরভাবে আহত করে।
গ্রামবাসীদের একাংশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনক জীবন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। সে সময় তারা করুণ আর্তনাদ করে জল চাইতে চাইতে আগুন থেকে উঠে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন লোকজন তাদের মূল বাড়ির আঙিনাতেই পুড়িয়ে হত্যা করে। এই ঘটনা সমগ্র কার্বি আংলং জেলা তথা গোটা রাজ্যকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
এই ডাইনি সন্দেহজনিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে শুক্রবার গুয়াহাটি থেকে আইজিপি অখিলেশ কুমার সিংহ এবং কার্বি আংলং জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পুষ্পরাজ সিংহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। আইজিপি অখিলেশ কুমার সিংহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।



