দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৫ নভেম্বর : মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিশিষ্ট আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও দানবীর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ১৫৭তম জন্মদিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার শিলচরে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় তাঁকে। এ উপলক্ষে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ স্মৃতি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে এক শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হাইলাকান্দি রোড ও চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলে অবস্থিত দেশবন্ধুর প্রতিমূর্তিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে নেতাজি গবেষক তথা প্রতিমূর্তি সংরক্ষণ ও স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি নীহাররঞ্জন পাল দেশবন্ধুর অসামান্য দানশীলতা, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইনজীবী হিসেবে বিপুল অর্থ উপার্জন করলেও দেশবন্ধু নিজের সমস্ত সম্পত্তি দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, বিপ্লবীদের সহায়তা এবং দরিদ্র মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন। এমনকি দেশের স্বার্থে নিজের বসতবাড়ি দান করতেও তিনি দ্বিধা করেননি।

অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্মৃতি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাধন পুরকায়স্থ দেশবন্ধুর রাজনৈতিক অবদান, ১৯২৩ সালে স্বরাজ দল প্রতিষ্ঠা এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশবন্ধুর অকালপ্রয়াণ বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলা ভাষা ও বাঙালির আত্মপরিচয় নিয়ে তাঁর গর্বিত বক্তব্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দেশবন্ধুর পূর্ণাঙ্গ প্রতিমূর্তি একমাত্র শিলচরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির প্রবীণ সদস্য বীরেশ ব্যানার্জি এবং প্রতিমূর্তি সংরক্ষণ ও স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক প্রবীর রায়চৌধুরী। বক্তারা দেশবন্ধুর অতুলনীয় দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক আদর্শের কথা তুলে ধরেন। প্রবীর রায়চৌধুরী বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছাড়াও হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র বসু ও যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব দেশবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে শিলচর পুরনিগমের প্রতিনিধি হিসেবে সৌরভ দেব এবং রোটারি গ্রিনল্যান্ডের সভাপতি মিঃ ওবাদিয়া উপস্থিত ছিলেন। দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শান্তি রঞ্জন ভট্টাচার্য ও ভাস্কর দাস।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পঙ্কজ পুরকায়স্থ, নীহার পুরকায়স্থ, শতদল আচার্য, কানাইলাল দাস, অধ্যাপক মৃদুল দাস, আজমল হোসেন চৌধুরী, শঙ্কর অধিকারী, সুহাস ধর, নবদ্বীপ দাস, সুব্রত চন্দ, সুদীপ ঘোষ, বিপ্লব রায় ও সমর পাল।
সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধন পুরকায়স্থ। শেষে সমবেত কণ্ঠে বন্দেমাতরম সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



