দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর : শিলচর পুর নিগমের নবনির্বাচিত একাধিক কাউন্সিলরের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। অন্তত ১২ থেকে ১৩ জন বিজয়ী প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার সরব হয়েছে শহরের সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন প্রতিবাদী সংগঠন। আগামী ৫ নভেম্বর নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত থাকলেও, সংশ্লিষ্ট অভিযোগের আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ শিলচরের ডিএসএ ময়দান থেকে একটি প্রতিবাদী মিছিল বের হয়। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে মিছিলটি জেলা কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি ধরনা বসেন আন্দোলনকারীরা। পরে জেলা কমিশনারের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আন্দোলনকারী প্রসেনজিৎ দেব, বিশিষ্ট আইনজীবী সৌমিত্র চৌধুরী, শিক্ষাবিদ বুদ্ধদেব চৌধুরী-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় থেকেই একাধিক প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আগাম আপত্তি জানানো হলেও যথাযথ তদন্ত বা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, আসাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট, ২০২২-এর বিধিবিধানও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগের সমর্থনে একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি নথি অনুযায়ী সিকিম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে। অথচ শিলচর পুর নিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক বিজয়ী প্রার্থী ২০১৮ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের দাবি করেছেন বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগেই কীভাবে সেখান থেকে ডিগ্রি পাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, এই আন্দোলন কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়। বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এবং আগামী প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই তাঁদের এই প্রতিবাদ।

আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, একাধিক প্রার্থীর শিক্ষাগত শংসাপত্র নিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও কীসের ভিত্তিতে তাঁদের শপথগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে? তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলির আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের শপথগ্রহণ স্থগিত রাখা হোক।
পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আগামী ৫ নভেম্বর নির্ধারিত শপথগ্রহণের দিনও সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তাঁরা। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিনের কর্মসূচিতে সঞ্জীব রায়, বন্দিতা ত্রিবেদী রায়, রণজিৎ দেবনাথ, মাধব সাহা-সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।



