শ্রীভূমি কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদন প্রকাশ করার দাবি : বাঙালি জাতীয় পরিষদের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২ নভেম্বর : সম্প্রতি শ্রীভূমিতে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় সংঘটিত অনাহুত মারামারির প্রেক্ষিতে উদ্ভূত  জাতিবিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ার আবহে বাঙালি জাতীয় পরিষদ গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন! একই সঙ্গে, বঙাইগাঁওয়ের ঢালিগাঁও-য়ে শিলচরের এক বাঙালি শিক্ষিকার সম্মানহানি এবং তাঁর স্বামীকে গুরুতরভাবে আহত করার ঘটনায়ও পরিষদ স্তম্ভিত!

উল্লেখ্য, শ্রীভূমিতে দুর্গা মূর্তি বিসর্জনের মিছিলে বিহু দলের ওপর আক্রমণ হয়েছে, তাদের বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে, ইত্যাদি খবর একপেশে ভাবে রাজ্যের বিভিন্ন মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার দরুন প্রথম দিকে সর্বস্তরের মানুষ এর প্রতিবাদ জানান। সামাজিক মাধ্যমে ঝড় ওঠে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা “অসমের সংস্কৃতি ও আত্মা” র ওপর আঘাত বলে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপিংসগুলো সামনে আসায় দেখা যায় যে অশান্তির সূত্রপাত অন্য কোনও কারণে হওয়ার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। সুরাপানজনিত কারণও এখানে বড় ভূমিকা নিয়েছে। এছাড়াও, এস এস পি লীনা দোলেও সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রীভূমির ঘটনা দুইপক্ষের নেহাৎ এক বচসা বলে মন্তব্য করেছেন। যা অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে সংঘটিত হয়েছে।

বাঙালি জাতীয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি চিত্ত পাল, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজকুমার দেব ও বরাক উপত্যকার পরিষদের আহ্বায়ক শিবাশিস চক্রবর্তী এক বিবৃতিতে বলেন, শ্রীভূমির ঘটনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাঙালি যুবকদের গ্রেফতার করে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং এখনও করা হচ্ছে বলে জানা গেছে । পরিষদের নেতারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আরও বলেন, যেহেতু এক হাতে যখন তালি বাজেনি, তাহলে কেন ছুতো বের করে বাঙালিদেরই টার্গেট করার পাশাপাশি বাঙালিদের “বাংলাদেশি” বলে যেভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা কোনও সভ্য সমাজে শোভা পায়না বলে মনে করে পরিষদ।

বলাবাহুল্য, কথায় কথায় সিট গঠন করে তদন্ত চালাতে অভ্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দুর্ভাগ্যজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিলেন না কেন? বরাকের সম্প্রীতিপ্রিয় জনগণের মনে এমন সহজাত প্রশ্ন জেগে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং অর্ধসত্য টুইট করে সমগ্র অসমের মানুষ কে বিভ্রান্ত করে তুলেছেন বলেও জোর আলোচনা চলছে। কেননা, এন আর সি-র কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার ফলশ্রুতিতে শ্রীভূমিতে ভারতীয় নাগরিকরাই বসবাস করেন। তাহলে কেন এই বিভেদমূলক আচরণ?

বাঙালি জাতীয় পরিষদ শ্রীভূমি কাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে ঘটনার প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে, বঙাইগাঁওয়ের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও  কঠোরতর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ওদিকে, বরাক উপত্যকার মন্ত্রী, বিধায়ক ও সাংসদেরা উভয় উপত্যকার বাঙালিদের জাত্যাভিমান অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন বলে পরিষদের নেতারা মনে করেন। একই সঙ্গে, শুধু পঁচিশ শতাংশ জনগোষ্ঠীর নন, তিন কোটি চল্লিশ লক্ষ জনগণের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করুন। একই সঙ্গে, বাঙালিদের “বাংলাদেশী” বলে অপমানিত করার প্রবণতা রোধ করতে মুখ্যমন্ত্রী সচেষ্ট হোন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *