বিজয়া সম্মেলনে প্রকাশিত আরতি দাসের ভ্রমণকাহিনি ‘অমৃতের সন্ধানে’

Spread the news

পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২ নভেম্বর : বিজয়া সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাহিত্য ও সংস্কৃতির মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল জাগরণ মহিলা সমিতি। রবিবার শিলচরের রংপুরের বৈদ্যনাথ সরণিতে অবস্থিত বৈদ্যনাথ নাথ কলেজ অফ যোগা সায়েন্সের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সমিতির সম্পাদিকা আরতি দাশের লেখা ভ্রমণকাহিনি ‘অমৃতের সন্ধানে’-র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইটির আবরণ উন্মোচন করেন দৈনিক যুগশঙ্খ গোষ্ঠীর প্রকাশনা সংস্থার চেয়ারম্যান বিজয়কৃষ্ণ নাথ। উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক ও কবি অতীন দাশ, আঞ্চলিক সংবাদ সংস্থা পিএনসির চেয়ারম্যান হারাণ দে, কবি ড. কস্তুরী হোম চৌধুরী, সমিতির উপদেষ্টা মহুয়া চৌধুরী, সাহিত্য সম্পাদিকা জয়ন্তী দত্ত এবং সমাজকর্মী কণন নাথ মজুমদার-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজয়কৃষ্ণ নাথ আরতি দাসের সাহিত্যচর্চার ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় তাঁর এই উদ্যোগকে বিশেষ আনন্দের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। আগামী দিনেও তাঁর কলম থেকে আরও বই প্রকাশিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নিজের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘এই তো স্বদেশ’, ‘এই তো পৃথিবী’ এবং ‘সাময়িক প্রসঙ্গ’-এর কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাঙালি সমাজে বিজয়া সম্মেলন, কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সিঁদুর খেলার ঐতিহ্যের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশিষ্ট কবি ও লেখক অতীন দাস তাঁর বক্তব্যে বই প্রকাশকে একটি উৎসবের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর মতে, বই সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাহন এবং পাঠকের সঙ্গে লেখকের সংযোগ স্থাপনই একজন লেখকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সাহিত্যচর্চার বিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যচর্চাকে বিশিষ্টজনদের গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও লেখার আগ্রহ সৃষ্টি করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যে রাসসুন্দরী দেবীর অগ্রণী ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। ভ্রমণকাহিনির গুরুত্ব তুলে ধরে সকলকে বই লেখার প্রতি উৎসাহিত করেন। নিজের সাহিত্যজীবনে প্রায় ৮০টি বই রচনার অভিজ্ঞতার কথাও জানান। স্ত্রী আরতি দাসের সাহিত্যপ্রচেষ্টায় তিনি গর্বিত বলে উল্লেখ করেন। নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি প্রসারিত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আরতি দাশ জানান, লেখালেখির ক্ষেত্রে স্বামী অতীন দাশ তাঁকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন। বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, সেখানকার মানুষ ও পরিবেশ থেকে পাওয়া উপলব্ধিগুলিই তাঁকে লেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা ও ভাবনাগুলিকে পাঠকের সামনে তুলে ধরার প্রচেষ্টাই তাঁর ভ্রমণকাহিনি ‘অমৃতের সন্ধানে’। বইটি প্রকাশিত হওয়ায় তিনি আনন্দিত বলে জানান।

অনুষ্ঠানে ‘ইস্টার্ন ক্রনিকল’-এর সম্পাদক ড. সুজাতা চৌধুরী ধর আরতি দাসকে অভিনন্দন জানিয়ে মহিলাদের সাহিত্যপ্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে উপযুক্ত মঞ্চ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এ লক্ষ্যে একটি সংগঠনের মাধ্যমে মহিলাদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করার উদ্যোগের কথাও জানান। শিলচরে সংগঠনটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, পিএনসির চেয়ারম্যান হারাণ দে বিজয়কৃষ্ণ নাথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি আরতি দাশের সাহিত্যিক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। জয়ন্তী দত্ত দিনটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করে আরতি দাসের সাহিত্যপ্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। এছাড়া মহুয়া চৌধুরী, কণন নাথ মজুমদার, মেনকা দাস এবং শিক্ষক কেদার নাথ বক্তব্য রাখেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে অনন্যা রায় বর্মনের উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অপ্রীতম দাসের বেহালা পরিবেশনা, শ্রাবণী সরকারের সংগীত এবং আরুশি দে ও দেবস্মিতা ঘোষের নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। কবিতা নাথ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সমিতির সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আরতি দাশ।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত জাগরণ মহিলা সমিতির মূল কার্যালয় শিলচরের রংপুরের নবপল্লিতে অবস্থিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *