সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত ‘সাইন’-এর তৃতীয় বর্ষপূর্তি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২ নভেম্বর : নানা বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাজকল্যাণমূলক বার্তার মধ্য দিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় শিলচর গান্ধী ভবনে পালিত হলো ‘সাইন’ সামাজিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংস্থার তৃতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন শিলচর রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের স্বামী বৈকুণ্ঠানন্দজি মহারাজ, রূপম সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নিখিল পাল, চিকিৎসক দর্শনা পাটুয়া, চিকিৎসক কেশব পাটিকর এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী করুণা রঞ্জন পাল। এরপর সংস্থার পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের উত্তরীয় ও স্মারক তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিখিল পাল বলেন, মাত্র তিন বছরের সংক্ষিপ্ত পথচলায় ‘সাইন’ সামাজিক কাজের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রেও যেভাবে নিজেদের স্বাক্ষর রেখেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি সংস্থার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

চিকিৎসক দর্শনা পাটুয়া তাঁর বক্তব্যে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই যে ভারতীয় সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় শক্তি, তা তুলে ধরেন এবং মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন।

সমাজকর্মী করুণা রঞ্জন পাল তাঁর বক্তব্যে রক্তদান আন্দোলনে আরও সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, বিবাহের পূর্বে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। ২০৪০ সালের মধ্যে থ্যালাসেমিয়ামুক্ত ভারত গড়ে তুলতে তিনি সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মুখ্য অতিথির ভাষণে স্বামী বৈকুণ্ঠানন্দজি মহারাজ স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মানুষের সেবাই প্রকৃত ঈশ্বরসেবা। সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রতিটি সামাজিক সংগঠনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি ‘সাইন’-এর সামগ্রিক সেবামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী ও সংগীতশিল্পীদের মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন সুনন্দা দেবনাথ। অনুষ্ঠানের সফল রূপায়ণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন সংস্থার সভাপতি বনানী দেব, সম্পাদিকা অনুরাধা ধর, কোষাধ্যক্ষ সুস্মিতা রায়, পায়েল দাস, শিপ্রা চৌধুরী, সিলভিয়া সরকার, দেবরত্নী রায়, সুপ্রিয়া পাল, অপরাজিতা ভট্টাচার্য, অর্চনা সিংহ, অঞ্জনা পাল, সম্পা পাল, নিবেদিতা সেন ও পল্লব ধরসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *