বরাক তরঙ্গ, ২২ অক্টোবর: মণিপুরি নারীদের ঐতিহাসিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও প্রতিবাদী চেতনাকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বরাক উপত্যকায় প্রথমবারের মতো স্থাপিত হতে চলেছে ২২ ফুট উচ্চতার ‘নুপি লান’-এর পূর্ণাঙ্গ মূর্তি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ২৭ নম্বর শিলচর–হাফলং মহাসড়কের পাশে মাদুরগ্রামে প্রস্তাবিত মূর্তির শিলান্যাস করেন উদারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা। অল আসাম মণিপুরি মৈরা পাইবি অপুনবা লূপ এবং অল আসাম মণিপুরি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আগামী ১২ ডিসেম্বর মূর্তিটি উন্মোচনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন উদ্যোক্তারা।
মণিপুরি ভাষায় ‘নুপি লান’ শব্দের অর্থ নারীদের সংগ্রাম। ১৯০৪ ও ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণমূলক নীতির বিরুদ্ধে মণিপুরি নারীদের নেতৃত্বে দুটি ঐতিহাসিক আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। সেই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং সংগ্রামী নারীদের অবদানকে যথাযথ সম্মান জানাতেই এই মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিধায়ক বলেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে মণিপুরের মা-বোনেরা যে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের সেই বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত মূর্তি আগামী প্রজন্মের কাছে মণিপুরী নারীদের ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও অবদানের কথা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর মতে, এই ইতিহাস শুধু মণিপুর বা উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র ভারতবর্ষের ইতিহাসেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
মূর্তি স্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক শ্যামকুমার সিংহ জানান, বরাক উপত্যকায় ‘নুপি লান’-এর একটি পূর্ণাঙ্গ মূর্তি স্থাপন করা মৈরা পাইবি অপুনবা লূপের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সংগঠনের কার্যালয়ের সামনেই মূর্তিটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর মূর্তি উন্মোচনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে সফল করে তুলতে বরাক উপত্যকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ‘নুপি লান’ পূর্ণাঙ্গ মূর্তি স্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান প্রভাবতী শর্মা ছাড়াও অমলা সিনহা, নন্দিতা সিনহা, ইবে তম্বি সিংহ, জ্যোতিমালা সিংহ, সত্যজিৎ সিংহ, রনবীর সিংহ ও সুরেন সিনহা-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্যোক্তাদের আশা, মাদুরগ্রামে নির্মিতব্য এই মূর্তি বরাক উপত্যকায় মণিপুরী নারীদের গৌরবময় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামী চেতনাকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁদের আত্মত্যাগের বার্তা পৌঁছে দিতে এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হয়ে উঠবে।



