স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে মানুষ গড়ার আহ্বান, শিলচরে যুব সম্মেলন শুরু

Spread the news

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১২ অক্টোবর : স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নৈতিক মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হল শিলচর রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের যুব সম্মেলনে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে সেবাশ্রমের অডিটোরিয়ামে শুরু হয় দু’দিনব্যাপী যুব সম্মেলন–২০২৬। ১২ ও ১৩ অক্টোবর আয়োজিত এই সম্মেলনের প্রথম দিনে বরাক উপত্যকার ৪০টি বিদ্যালয়ের অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

সম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দের জীবনদর্শন, চরিত্র গঠন, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং জাতি গঠনে যথার্থ মানুষ তৈরির শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট সন্ন্যাসীরা। বক্তব্য রাখেন কলকাতার রামকৃষ্ণ মঠ, স্বামী বিবেকানন্দের পৈতৃক বাসভবন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্পাদক স্বামী জ্ঞানলোকানন্দজি, গুজরাটের ভুজ রামকৃষ্ণ মঠের স্বামী সুখানন্দজি, কৈলাশহর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের স্বামী গিরিজানন্দজি এবং স্বামী বৈকুণ্ঠানন্দজি।

স্বাগত বক্তব্যে শিলচর রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের সম্পাদক স্বামী গণাধীশানন্দজি মহারাজ বলেন, সারা বছর বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। পড়াশোনার চাপের বাইরে এসে স্বামীজির চিন্তাধারার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলা এবং তাঁদের মধ্যে শান্তি, মানবতা, দেশপ্রেম ও বিশ্বপ্রেমের ভাব জাগিয়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।।তিনি আরও বলেন, শৈশব থেকেই শিশুদের মনে ইতিবাচক চিন্তা ও নৈতিক মূল্যবোধের বীজ বপন করা গেলে ভবিষ্যতে তারা সুন্দর মনের মানুষ এবং সমাজের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করাও এই সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।

স্বামী সুখানন্দজি প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠা, জীবনের সার্থকতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, মা-বাবা, সমাজ, প্রকৃতি ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে মানুষ অনেক কিছু পায়। তাই সমাজ ও দেশের কল্যাণে তার চেয়েও বেশি ফিরিয়ে দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। স্বামী বিবেকানন্দের ‘দাও আর ফিরে নাহি চাও’ আদর্শের মধ্যেই এই ভাবনা নিহিত রয়েছে। ‘MAN’ শব্দটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ‘M’—Morality বা নৈতিকতা, ‘A’—Ability বা সামর্থ্য এবং ‘N’—Nobility বা মহত্ত্বের কথা তুলে ধরেন। নিজের উন্নতির পাশাপাশি অন্যের কল্যাণে কাজ করার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

স্বামী জ্ঞানলোকানন্দজি বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আদর্শ চরিত্র গড়ে তোলাই যুব সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। ছাত্রজীবন থেকেই এই আদর্শগুলির অনুশীলন ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে।

সম্মেলনের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, প্রশ্নোত্তর পর্ব, ধ্যান এবং মানসিক বিকাশমূলক খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবক মিলিয়ে প্রায় ৪০০ জন এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। স্বামী বিবেকানন্দের মনুষ্যত্ব জাগরণের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও সুন্দর করে তোলার আহ্বানের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রথম দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *