বরাক তরঙ্গ, ১২ অক্টোবর : দেশভাগের ইতিহাস, উদ্বাস্তু-স্মৃতি এবং জলভূমির উত্তরাধিকারকে কেন্দ্র করে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিলেন অসমের শ্রীভূমির গবেষক ও সাহিত্যকর্মী। সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়, ঝাড়গ্রামে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে তিনি স্মারক বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
বক্তৃতার বিষয় ছিল— “দেশভাগ শুধু মাটি ভাগ করেনি, ভাগ করেছিল জলকেও—বরাক উপত্যকার কৈবর্ত মৎস্যজীবী মানুষের জীবনে দেশভাগ, উদ্বাস্তু-স্মৃতি ও জলভূমির উত্তরাধিকার।” আলোচনায় বরাক উপত্যকার কৈবর্ত মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবন, দেশভাগের অভিঘাত, উদ্বাস্তু মানুষের স্মৃতি এবং জলভূমির সঙ্গে তাঁদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। দেশভাগের প্রভাব যে শুধু ভৌগোলিক সীমানা বা ভূমির বিভাজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং নদী, জলাশয়, জীবিকা ও প্রজন্মান্তরে বহমান সামাজিক উত্তরাধিকারের উপরও তার প্রভাব পড়েছিল,বক্তৃতার বিষয়বস্তুতে সেই দিকটি তুলে ধরা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মারক বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চন্দ্রদীপা ঘোষের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক অভ্যর্থনা ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।

অসমের শ্রীভূমি থেকে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত এই যাত্রাকে তিনি তাঁর সাহিত্যিক ও গবেষণামূলক জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
বরাক উপত্যকার প্রান্তিক মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ইতিহাস, দেশভাগের স্মৃতি এবং জলকেন্দ্রিক জীবন-সংস্কৃতিকে বৃহত্তর শিক্ষাঙ্গনে তুলে ধরার এই উদ্যোগ আঞ্চলিক ইতিহাস ও লোকজীবন নিয়ে গবেষণার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।



