আগমনী সুরে মাতল শহর, সামাজিক বার্তা নিয়ে পথে বিভিন্ন সংগঠন_____
নীলকণ্ঠ চৌধুরী, হাইলাকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ অক্টোবর : দেবীপক্ষের সূচনায় মহালয়ার পুণ্যপ্রভাতে আগমনী সুরে মুখরিত হয়ে উঠল হাইলাকান্দি শহরের আকাশ-বাতাস। শনিবার ভোর থেকেই শহরের রাজপথে নামে মানুষের ঢল। দুর্গাপুজোর আগাম বার্তা বিনিময়, পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং পরিচিতজনদের সঙ্গে নস্টালজিক আড্ডায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে শহরের সর্বত্র।
রাত পোহাতেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কালজয়ী চণ্ডীপাঠ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন আবালবৃদ্ধবনিতা। ছোট্ট শহর হাইলাকান্দির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পায়ে হেঁটে, সাইকেল, মোটরসাইকেল ও চারচাকার যান নিয়ে আগমনী সুরে মেতে ওঠেন। শহরের রাজপথে এদিন উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিও বিশেষভাবে নজর কাড়ে।

মহালয়ার প্রভাতে নেশামুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে জেলা পুলিশ প্রশাসন, হাইলাকান্দি সাইকেল ক্লাব, রোটার্যাক্ট ক্লাব অব হাইলাকান্দি গ্রিন সিটি এবং স্টেপআপ ডান্স একাডেমি। তাদের উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, রামকৃষ্ণ সেবা সমিতি, বজরং দল, ইসকন, প্যারামাউন্ট সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল কর্তৃপক্ষ-সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রসাদ, চা ও বিস্কুট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি, সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে পদার্পণকারী অবদূত ক্লাবের বিশাল সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা ছিল এদিনের অন্যতম আকর্ষণ। অবদূত ক্লাব ও জাগ্রত ক্লাবের সুসজ্জিত ট্যাবলো শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে উৎসবের আবহকে আরও বর্ণময় করে তোলে।

সব মিলিয়ে, মহালয়ার প্রভাতে হাইলাকান্দি শহরে ধর্মীয় আবেগ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক সচেতনতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য মেলবন্ধন পরিলক্ষিত হয়। দেবীপক্ষের সূচনায় এই বর্ণাঢ্য আয়োজন শহরবাসীর মনে শারদোৎসবের আনন্দ ও প্রত্যাশাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।




