মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ অক্টোবর: শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে পাথারকান্দিতে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে আগেভাগেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। নিরাপত্তা, যান চলাচল, অগ্নিনিরাপত্তা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
এই লক্ষ্যে মঙ্গলবার পাথারকান্দি ব্লক উন্নয়ন কার্যালয়ে সমজেলা কমিশনার ত্রিদীব রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি সভা। সভায় বিভিন্ন সরকারি বিভাগের আধিকারিকদের পাশাপাশি স্থানীয় দুর্গাপূজা কমিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় উৎসব চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি পূজা কমিটিকে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিটি মণ্ডপে ১০ জন পুরুষ ও ১০ জন মহিলা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে। তাঁদের পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট থানার ওসি দ্বারা সত্যায়িত থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি রাতের নিরাপত্তার জন্য রাত্রিকালীন পাহারাদার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় প্রতিটি মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, বালু ও পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পানীয় জল এবং পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পূজার সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পাথারকান্দি শহরে বিশেষ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ থাকবে। মুন্ডমালা খেলার মাঠ সংলগ্ন জাতীয় সড়ক এবং উত্তর রেলগেটের পাথারকান্দি কলেজ রোড সংলগ্ন জাতীয় সড়কে ‘নো এন্ট্রি’ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স, দমকল, বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়ি, সংবাদমাধ্যমের যান এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা ও দূরপাল্লার নৈশবাস এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। দ্রুত পুলিশি সহায়তার জন্য প্রতাপগড় সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সামনে পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। দশমীর দিন জাতীয় সড়কে পটকা ফাটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাত ১০টার পর মাইক বা বক্স ব্যবহারও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।
এবার প্রতিমা বিসর্জন নিয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ২১ অক্টোবর একদিনেই সমস্ত প্রতিমার বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে স্থানীয় বিসর্জন ঘাটে নিরঞ্জন প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘাটে ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি পূজা কমিটি থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্যকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। বিসর্জন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গাপূজা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। তাই উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের সুবিধার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে পূজা কমিটি, স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগাম প্রস্তুতি ও প্রশাসন-পূজা কমিটির সমন্বয়ের মাধ্যমে পাথারকান্দিতে নির্বিঘ্নে শারদোৎসব পালনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।



