নিয়ম না মানায় বরাকসহ রাজ্যের প্রায় ২০০ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৬ অক্টোবর : নির্ধারিত সরকারি নিয়ম ও পরিকাঠামোগত শর্ত পূরণ না করায় অসমের ২৫টি জেলার প্রায় ২০০টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বীকৃতির আবেদন বাতিল করেছে শিক্ষা দফতর। বৈধ প্রশাসনিক স্বীকৃতি ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে সতর্ক করেছে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর। প্রয়োজনীয় ঘাটতি পূরণ না হলে আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন করে পড়ুয়া ভর্তির অনুমতিও না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অসম নন-গভর্নমেন্ট এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস (রেগুলেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) আইন, ২০০৬ এবং ২০১৮ সালের সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক স্বীকৃতির জন্য জমা পড়া আবেদনগুলি পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্বীকৃতি কমিটির পর্যালোচনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করার বিষয়টি উঠে আসে।
মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর সংশ্লিষ্ট স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দিয়েছে, তাঁরা যেন দ্রুত প্রতিষ্ঠানগুলিকে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান এবং বৈধ প্রশাসনিক স্বীকৃতি ছাড়া কোনও স্কুল যাতে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে না পারে তা নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে পরিদর্শকদের কাছ থেকে দ্রুত রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষার অধিকর্তা মমতা হোজাই জানান, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক অনুমতি পাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও চূড়ান্ত প্রশাসনিক স্বীকৃতি পাওয়ার বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২০, ২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রাথমিক অনুমতির জন্য আবেদন করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করেনি।

শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের মতে, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। বিশেষ করে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। পরিদর্শনের সময় কোথাও জমির প্রয়োজনীয় নথি বা লিজ চুক্তির অভাব, কোথাও স্কুলে যাওয়ার উপযুক্ত রাস্তা না থাকা এবং কোথাও আবাসিক ভবনে স্কুল পরিচালনার মতো অনিয়ম ধরা পড়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের রাস্তা এতটাই সরু যে জরুরি পরিস্থিতিতে দমকলের গাড়ি পৌঁছনোও কঠিন বলে জানিয়েছে দফতর।

দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর জন্য প্রথমে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। এরপর জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জমি, পরিচালন ব্যবস্থা, শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পরিদর্শন করে। শর্ত পূরণ হলে দুই বছরের জন্য প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী নিবন্ধন, ইউডাইএস এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রাজ্য শিক্ষা পর্ষদের কোড সংগ্রহ করতে হয়। সিবিএসই-র অধীন প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সংশ্লিষ্ট নিয়ম পূরণ করতে হয়। অস্থায়ী নিবন্ধন পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রশাসনিক স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা বাধ্যতামূলক।

এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসা ২৫টি জেলার মধ্যে রয়েছে বরপেটা, বঙাইগাঁও, কাছাড়, চরাইদেও, দরং, ধেমাজি, ধুবড়ি, ডিব্রুগড়, গোয়ালপাড়া, গোলাঘাট, হাইলাকান্দি, যোরহাট, কামরূপ, কামরূপ মহানগর, শ্রীভূমি, লখিমপুর, মাজুলি, মরিগাঁও, হোজাই, নগাঁও, নলবাড়ি, শিবসাগর, শোণিতপুর, দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর ও তিনসুকিয়া।

মমতা হোজাই আবাসিক ভবনে স্কুল পরিচালনার কয়েকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খেতরিতে জমি দেখিয়ে প্রাথমিক অনুমতি নেওয়ার পর ‘বিবেকানন্দ অ্যাকাডেমি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে গুয়াহাটিতে স্কুল চালু করে। এ ধরনের নিয়মবহির্ভূত কার্যকলাপ গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
তবে বর্তমান শিক্ষাবর্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঘাটতি পূরণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রতিষ্ঠানগুলি পুনর্বিবেচনার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবে। বর্তমান অনুমতির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলিকে নতুন করে আবেদন করতে হবে।

শিক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্তের ফলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রশাসনিক জবাবদিহি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আগামী শিক্ষাবর্ষে সন্তানদের ভর্তি করানোর আগে অভিভাবকদেরও সংশ্লিষ্ট স্কুলের বৈধ প্রশাসনিক স্বীকৃতি, পরিকাঠামো এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *