মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৫ অক্টোবর : অসম ও ত্রিপুরার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ৮ নম্বর জাতীয় সড়কের আছিমগঞ্জ অংশের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আছিমগঞ্জের গড়ের মুখ থেকে ব্যস্ততম বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। কোথাও উঠে গিয়েছে পিচের আস্তরণ, কোথাও আবার গর্তে জমে থাকছে কাদা ও জল। যানবাহন চলাচলের সময় উড়ছে ধুলোও। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সড়ক এখন নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী গাড়ি, বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যান, অটো, টোটো ও মোটরসাইকেলসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। ফলে রাস্তার বেহাল অবস্থায় যান চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট গাড়ির চালকদের জন্য রাস্তার গর্তগুলি বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিক জায়গায় গর্ত এতটাই বড় হয়েছে যে, সেগুলি এড়াতে চালকদের বাধ্য হয়ে হঠাৎ রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একটি গর্ত এড়াতে গিয়ে কোনও গাড়ি আচমকা লেন পরিবর্তন করলে পিছনে বা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের চালকদের হঠাৎ ব্রেক করতে হচ্ছে।

বৃষ্টির পর পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। গর্তে জল জমে যাওয়ায় বাইরে থেকে তার গভীরতা বোঝা যায় না। ফলে বাইক, স্কুটি কিংবা ছোট গাড়ির চালকরা আচমকা গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় থাকেন। রাতের বেলায় পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতার অভাবে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শুধু যানচালকরাই নন, রাস্তার পাশে থাকা ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারাও সমস্যায় পড়েছেন। যান চলাচলের সময় উড়ে আসা ধুলো দোকানপাট ও বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। বাজার এলাকায় যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় অনেক সময় যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অবস্থা খারাপ। গর্তে জল জমে গেলে কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত, তা বোঝার উপায় থাকে না। বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগী হওয়া উচিত।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে গর্তে মাটি বা পাথর ফেলে সমস্যার সমাধান না করে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, গর্ত মেরামত এবং প্রয়োজনে নতুন করে পিচ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অসম-ত্রিপুরা যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। দ্রুত সমস্যার সমাধানে পাথারকান্দির বিধায়ক তথা রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল এবং পাথারকান্দি মহকুমার দায়িত্বপ্রাপ্ত সমজেলা আয়ুক্ত ত্রিদিব রায়ের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের বক্তব্য, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এখনই পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে স্থায়ী সংস্কার করা না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।



