রূপক চক্রবর্তী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১ অক্টোবর : ধুবড়ির সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা রকিবুল হোসেনকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাল শিলচর জেলা কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে বিরোধী দলের প্রতি অসম্মানজনক বলে অভিযোগ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক তথা শিলচর জেলা কংগ্রেসের কো-ইনচার্জ বদরুল ইসলাম বড়ভূইয়া। বৃহস্পতিবার ইন্দিরা ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে বদরুল বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বিরোধী দলের নেতাদেরও যথাযথ মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, সাংবিধানিক পদে থাকা মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বিরোধী নেতাদের নিয়ে কটাক্ষ করলে তা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পদের মর্যাদা—দুইয়েরই পরিপন্থী।
রকিবুল হোসেন একজন নির্বাচিত সাংসদ এবং বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলে উল্লেখ করে বদরুল বলেন, কংগ্রেসের আমলে বিরোধী দলের নেতাদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অবক্ষয় ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। রকিবুলকে ‘জন্তু’ বা ‘বকাসুর’-এর সঙ্গে তুলনা করে আক্রমণ করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার এক প্রচারসভায় মুখ্যমন্ত্রী রকিবুলকে ‘বকাসুর’ বলে কটাক্ষ করেছেন বলে অভিযোগ কংগ্রেসের।
জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দেব ও আবদুল রাজ্জাকের উপস্থিতিতে বদরুল আরও বলেন, কে কী খাবেন বা খাবেন না, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কারও খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আক্রমণ করাও সমীচীন নয় বলে তাঁর মন্তব্য। তাঁর দাবি, রকিবুলকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনার সীমা অতিক্রম করে ব্যক্তিগত কটাক্ষের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এদিকে, শিলচর পুরনিগম নির্বাচন নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন বদরুল। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস প্রার্থী তাপস দাসের দলবদলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করতে ভয়, চাপ, প্রলোভন ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি করা হচ্ছে। অসমের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রেও বিরোধীদের দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিলচর পুরনিগম নির্বাচনেও একই ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন বদরুল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই কৌশল সফল হয়েছে মনে করেই পুরনিগম নির্বাচনেও একই পন্থা নেওয়া হচ্ছে।



