বরাক তরঙ্গ, ১ অক্টোবর : শিলচরে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কনভয় যাওয়ার জন্য রাস্তায় আটকে রাখা হয়েছিল একটি অ্যাম্বুলেন্স। সেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা গুরুতর অসুস্থ রোগী রসরাজ চক্রবর্তী ওরফে রিন্টু ঠাকুর বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা রসরাজ চক্রবর্তীকে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় পারাপারের জন্য পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় মাঝরাস্তায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে অ্যাম্বুলেন্সটি। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্যজুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
ঘটনাটি সামনে আসার পর বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ভিআইপি মুভমেন্টের তুলনায় সাধারণ মানুষের জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে কোনও পরিস্থিতিতেই অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি পরিষেবার যানবাহন যাতে আটকে না রাখা হয়, সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশও দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই কর্তব্যরত চার পুলিশকর্মীকে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মধ্যেই বৃহস্পতিবার আসে রসরাজ চক্রবর্তীর মৃত্যুর খবর।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, শুধু ক্ষমাপ্রার্থনা বা পুলিশকর্মীদের সাসপেন্ড করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। জরুরি পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ভিআইপি চলাচলের কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, প্রশাসনের নির্দেশ সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে ‘ভিআইপি কালচার’ বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে?



