প্রশংসা নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের
১ অক্টোবর : মাঝআকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের জীবন বিপন্ন করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে শতাধিক যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ‘সত্যিকারের হিরো’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে ঘটে ঘটনাটি। বিমানে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে ১৫০ জন ইজরায়েলের নাগরিক এবং ২৭ জন শিশু। দুবাই থেকে উড্ডয়নের পর মাঝআকাশে ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর এবং তাঁর ওমানি কো-পাইলটের মধ্যে আচমকা সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ছুরি নিয়ে ক্যাপ্টেনের উপর হামলা চালিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন কো-পাইলট। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
হামলায় গুরুতর আহত হন ক্যাপ্টেন মচ্ছর। একাধিক আঘাতের পরও তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে দেননি। তাঁর প্রতিরোধের ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়া থেকে রক্ষা পায়। পরে ককপিটের দরজা খুললে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার সময় বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। এক পর্যায়ে দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে বিমানটি এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। পরে বিমানে থাকা আরও দুই রিলিফ পাইলট ককপিটের দায়িত্ব নেন। শেষ পর্যন্ত ১৭৪ যাত্রী-সহ বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।
এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ লেখেন, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। গুরুতর আহত হওয়ার পরও অন্যদের জীবন রক্ষার দায়িত্ব থেকে তিনি সরে যাননি। তাঁর দৃঢ় সংকল্প শতাধিক মানুষের প্রাণ রক্ষা এবং বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভারত ক্যাপ্টেন মচ্ছরকে নিয়ে গর্বিত বলেও জানান তিনি।
মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ট্রাম্প তাঁকে ‘হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গুরুতর আহত হয়েও তিনি নিজের বিচারবুদ্ধি হারাননি।
গুজরাতি বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গত চার বছর ধরে ফ্লাইদুবাইয়ের সঙ্গে যুক্ত। এর আগে ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় এক দশক স্পাইসজেটে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর LinkedIn প্রোফাইল অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭ বিমানে ১৩ বছরেরও বেশি সময় বাণিজ্যিক বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আহত ক্যাপ্টেন মচ্ছর এবং তাঁর ওমানি কো-পাইলটকে সৌদি আরবের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মচ্ছর বর্তমানে ICU-তে চিকিৎসাধীন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।



