শিলচর পুরনিগম নির্বাচন: বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ বিজেপির, প্রাথমিক সদস্যপদ হারালেন ১৬ জন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৭ সেপ্টেম্বর : শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে দলীয় টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল বিজেপি। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্দল হিসেবে নির্বাচনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় মোট ১২ জন বিক্ষুব্ধ নির্দল প্রার্থীকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁদের মধ্যে তিনজনের স্বামী এবং আরও এক নির্দল প্রার্থীর স্ত্রী—মোট চারজনকেও দল থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
দলীয় রাজ্য সভাপতি দিলীপ শইকিয়ার নির্দেশে শনিবার রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনুপ বর্মন পৃথক দুটি চিঠির মাধ্যমে মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
বহিষ্কৃত ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন—২ নম্বর ওয়ার্ডের দীপু সিনহা, ৪ নম্বরের মনিকা মণ্ডল, ৬ নম্বরের সন্দীপ দত্ত, ১০ নম্বরের অনুপমা দাস, ১১ নম্বরের রথীন্দ্রনাথ সাহা ওরফে মাধব, ১৪ নম্বরের সঙ্গীতা চক্রবর্তী, ১৯ নম্বরের নৃপেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুর, ২১ নম্বরের মনীষা দে, ৩১ নম্বরের রাখী চৌধুরী, ৩৮ নম্বরের সহেলী দেব, ৩৯ নম্বরের দেবাশিস রায় এবং ৪০ নম্বরের শিবা দেব।

অন্যদিকে, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অপসারিত চারজন হলেন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুমিতা পাল, ১৪ নম্বরের সপ্তদ্বীপ চক্রবর্তী, ২১ নম্বরের জয়জ্যোতি দে এবং ৩১ নম্বরের পীযূষ চৌধুরী। সপ্তদ্বীপ, জয়জ্যোতি ও পীযূষ যথাক্রমে বিক্ষুব্ধ প্রার্থী সঙ্গীতা চক্রবর্তী, মনীষা দে ও রাখী চৌধুরীর স্বামী।

দলীয় সূত্রের দাবি, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে মধুমিতা পাল নিজে দলীয় টিকিট চাইলেও প্রার্থী হননি। তবে তাঁর স্বামী মনোজ পাল ওই ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অভিযোগ, মধুমিতা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বামীর হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, চারজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রাক্তন পুরপতি তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা নীহারেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুরকে ঘিরে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর ছেলে নৃপেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং বহিষ্কৃত ১২ জনের তালিকায় রয়েছেন। দলের একাংশের প্রশ্ন, পরিবারের সদস্য নির্দল প্রার্থী হওয়ায় অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে নীহারেন্দ্রবাবুর বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে দলের মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, দলের কাছে কেউই বড় নন। প্রাক্তন পুরপতির ছেলে হলেও নৃপেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নীহারেন্দ্রবাবুকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, নীহারেন্দ্রবাবু বয়োবৃদ্ধ এবং ছেলে নির্দল প্রার্থী হলেও তিনি নিজে তাঁর হয়ে প্রচার করছেন না। বরং ২১ নম্বর ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *