২১ সেপ্টেম্বর : কেরলমে হড়পা বান ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রবল বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন এলাকায় হড়পা বান ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দু’জন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসনকে প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কমিশনার বিঘ্নেশ্বরী আইএএস ইমুক্কি ও কোট্টায়ামের জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিপজ্জনক আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মালাপ্পুরম জেলার নীলাম্বর-আমারমবলম এলাকায় কোট্টাপুঝা নদীতে হড়পা বান নেমে পাঁচজনের একটি দল ভেসে যায়। ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দু’জন এখনও নিখোঁজ। ভান্দুর থেকে আসা ওই দলটি রবিবার সন্ধ্যায় নদীতে নেমেছিল। আচমকা জলের স্তর বেড়ে গেলে তাঁরা স্রোতে ভেসে যান। স্থানীয় এক বাসিন্দা একজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দু’জনের দেহ উদ্ধার করেছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
অন্যদিকে, কোট্টায়াম জেলার থীকয়ের কাছে ভেলাথাঞ্জেরিতে ভূমিধসে তামিলনাড়ুর এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। চেন্নাইয়ের জওহর নগরের ৩৫ বছর বয়সি সংগীতা অরুল লাল বাগমন থেকে স্কুটারে ফেরার সময় পাহাড়ের মাটি ধসে তাঁর ওপর পড়ে। তাঁর সঙ্গী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইদুক্কি জেলার কোত্তাকাম্বুরেও ভূমিধসে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে একটি টিনের ছাউনিতে আশ্রয় নেওয়া তিনজনের ওপর পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। আহত এক মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দিন কেরলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কয়েকটি অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়েরও সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কোট্টায়াম ও ইদুক্কিতে জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। উল্লেখ্য, চলতি মরশুমে কেরলে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।



