মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ সেপ্টেম্বর : ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ শিক্ষক আশিস সোমের রহস্যের কিনারা করতে শ্রীভূমি সরকারি কবরস্থানে শুরু হল গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়া। বুধবার সকালে কবরস্থান থেকে ২০১১ সালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন করা তিনটি মৃতদেহের নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংগৃহীত নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় কবরস্থানজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালে। ত্রিপুরার আগরতলার বাসিন্দা শিক্ষক আশীষ সোমকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর অসমের তৎকালীন করিমগঞ্জ জেলার শনবিল এলাকায় একটি অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও মৃতদেহটির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে সরকারি নিয়ম মেনে সেটিকে শ্রীভূমি সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর কেটে গেলেও আশীষ সোমের সন্ধান মেলেনি। এবার পুরনো তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে। কবরস্থানে দাফন করা অজ্ঞাত মৃতদেহগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, তিনটি মৃতদেহের নমুনা সংগ্রহের পর সেগুলি আশীষ সোমের নিকট আত্মীয়দের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতে পারে। পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃতদেহগুলোর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিন কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন আশিস সোমের এক নিকট আত্মীয়। তাঁর দাবি, নিখোঁজ হওয়ার সময় আশীষ সোমের বয়স ছিল প্রায় ৪০ বছর। পরিবারের আরও দাবি, নিখোঁজ হওয়ার মাত্র দুদিন পর অপহরণকারীরা ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। এরপর থেকেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগে আশায় বুক বাঁধছে পরিবার। এখন পরীক্ষার রিপোর্টই জানাবে, কবরস্থানে দাফন করা অজ্ঞাত মৃতদেহগুলোর সঙ্গে নিখোঁজ শিক্ষক আশিস সোমের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না।



