১৫ সেপ্টেম্বর : অসম-মেঘালয় ক্যাডারের ২০০৬ ব্যাচের ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তা ড. সঞ্জুক্তা পরাশার সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) এলিট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ফর রেজোলিউট অ্যাকশন বা কোবরা-র ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি এই বিশেষ জঙ্গলযুদ্ধ প্রশিক্ষিত বাহিনীর নেতৃত্বে আসা প্রথম মহিলা কর্মকর্তা।
সিআরপিএফ সদর দফতর গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করে। ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা দানেশ রানার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পরাশার। এক সিনিয়র কর্মকর্তা পিটিআইকে জানান, দশ ব্যাটালিয়ন নিয়ে গঠিত কোবরা বাহিনীর শীর্ষপদে এই প্রথম কোনও মহিলা কর্মকর্তা দায়িত্ব পেলেন।
এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের ডেপুটেশনে সিআরপিএফে আইজি হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। গত ৬ আগস্ট ২০২৬-এ এ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি হয়। বর্তমানে তিনি কোবরা বাহিনীর কার্যকরী কমান্ড গ্রহণ করেছেন।
২০০৮-০৯ সালে সিআরপিএফের উদ্যোগে কোবরা বাহিনী গড়ে তোলা হয়। মূলত বামপন্থী উগ্রবাদ দমনে গোয়েন্দা-নির্ভর জঙ্গল ও গেরিলা অভিযান পরিচালনা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘন জঙ্গলে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান, অ্যামবুশ ও কাউন্টার-অ্যামবুশ, আইইডি মোকাবিলা এবং সশস্ত্র জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে অভিযান চালানোর জন্য কোবরা কমান্ডোদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও মহারাষ্ট্রে বাহিনীটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়েছে। সম্প্রতি সশস্ত্র হিংসা নিয়ন্ত্রণে মণিপুরেও কোবরার দু’টি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।
৩ অক্টোবর ১৯৭৯ সালে অসমে জন্মগ্রহণ করেন সঞ্জুক্তা পরাশার। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দ্রপ্রস্থ কলেজ ফর উইমেনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। পরে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মার্কিন বিদেশনীতি বিষয়ে মাস্টার্স, এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৫ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৮৫তম স্থান অর্জন করে তিনি আইএএসের পরিবর্তে আইপিএস বেছে নেন। ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন এবং ক্যাডার অনুযায়ী সরাসরি অসমে পোস্টিং পাওয়া প্রথম অসমীয়া মহিলা আইপিএস কর্মকর্তা হন।
মাকুম ও উদালগুড়িতে কর্মজীবনের শুরুতেই জাতিগত সংঘর্ষ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। সোনিতপুরের পুলিশ সুপার থাকাকালীন ১৫ মাসে ১৬টি বড় অভিযানে নেতৃত্ব দেন। ওই অভিযানে ১৬ জন জঙ্গি নিহত এবং ৬৪ জন গ্রেফতার হয়। জঙ্গলে অভিযানের সময় তিনি নিয়মিত বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি মাঠে উপস্থিত থাকতেন। অসম পুলিশের কমান্ডো এবং কোবরা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও একাধিক অভিযানে অংশ নেন। তাঁর এই সাহসী ভূমিকার জন্যই জনপ্রিয়ভাবে ‘অসমের আয়রন লেডি’ নামে পরিচিতি পান।
পরবর্তীতে জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের দায়িত্ব সামলান। কর্মজীবনে তিনি রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক, ২০২২ সালের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুলিশ প্রশিক্ষণে উৎকর্ষতার পদক এবং রানি গাইদিনলিউ জেলিয়াং পুরস্কার লাভ করেছেন।
জঙ্গলযুদ্ধ ও বিদ্রোহ দমনে তাঁর দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং এনআইএ-তে তদন্ত পরিচালনার দক্ষতা—এই দুইয়ের সমন্বয় কোবরা বাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মাওবাদী হিংসার অবশিষ্ট এলাকাগুলির পাশাপাশি মণিপুরের মতো স্পর্শকাতর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও কোবরা মোতায়েন থাকায় তাঁর নতুন দায়িত্ব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



