আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বাদ, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি বরাকবঙ্গের

Spread the news

ইতিহাস ও ভাষার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা : গৌতম দত্ত

বরাক তরঙ্গ, ১২ সেপ্টেম্বর : বরাক উপত্যকার জনবিন্যাস, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন আন্দোলনের ইতিহাস এবং এই অঞ্চলের জনগণের ভাষাগত আবেগ উপেক্ষা করে বাংলা ভাষার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চাইছে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়। এমনই অভিযোগ তুলেছে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন। এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘ডিজিটাল লাইব্রেরি’-তে বাংলা ভাষাকে ব্রাত্য রাখার উদাহরণ টেনে সম্মেলন অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে।

বরাকবঙ্গের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র গৌতম প্রসাদ দত্ত শনিবার এই দাবি তুলে বরাকের জনগণের ভাবাবেগে আঘাত না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে স্মরণ করিয়ে দেন, এই ভূমির জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়। তাই বরাকের জনবিন্যাস এবং ইতিহাসের বাস্তবতাকে কোনওভাবেই উপেক্ষা করা বাস্তববুদ্ধির পরিচায়ক হবে না। এতে অকারণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বরাক উপত্যকার ভাষিক পরিচয় বদলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন তরফে ক্রমাগত চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলে মুখপাত্র দত্ত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়-কাণ্ড এই প্রক্রিয়ায় নবতম সংযোজন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অথচ ৬১-এর ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরে সংশোধিত আসাম সরকারি ভাষা আইন অনুসারে বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক সরকারি ভাষা বাংলা। কেন্দ্র সরকার বাংলাকে অন্যতম ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদাও দিয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাকে বাদ দিয়ে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের ডিজিটাল পোর্টাল তৈরি হবে, তা মোটেই প্রত্যাশিত নয়। এই উপত্যকার জনবিন্যাসের চরিত্রের ভিত্তিতে বাংলাকে এভাবে উপেক্ষা করা হলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজীবমোহন পন্থ বর্তমানে শিলচরের বাইরে রয়েছেন। বরাকবঙ্গের তরফে এ অবস্থায় শনিবার পঞ্জিয়ক প্রদোষ কিরণ নাথকে অসন্তোষের কথা সবিস্তারে জানিয়ে ভাষা শহিদের উপত্যকায় বাংলাকে ব্রাত্য রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। জবাবে তিনি বলেন, সোমবার উপাচার্য এলে এ নিয়ে তিনি তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন। বাংলা ভাষা নিয়ে এই অঞ্চলে যে প্রবল ভাবাবেগ রয়েছে, সেটিও তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন। বিবৃতিতে এ কথা উল্লেখ করে মুখপাত্র দত্ত আশা ব্যক্ত করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ক্ষেত্রে অবিলম্বে সদর্থক পদক্ষেপ নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *