১২ সেপ্টেম্বর : বিশিষ্ট লোকগীতি শিল্পী ও সঙ্গীতকার শাহ আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবস আজ, ১২ সেপ্টেম্বর। ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি প্রয়াত হন। ১৯১৬ সালে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন শ্রীহট্টের এই কিংবদন্তি শিল্পী।
লোকসঙ্গীতের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে শাহ আবদুল করিমের রচিত ও সুরারোপিত স্বাধিকারমূলক গান মানুষের মধ্যে গভীর প্রেরণা জুগিয়েছিল। তাঁর সৃষ্টিসম্ভার আজও বাংলার লোকসংগীতের জগতে বিশেষ মর্যাদা বহন করে। শিল্পীজীবনে তিনি একুশে পদকসহ শতাধিক সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হন।
শাহ আব্দুল করিমের গান শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও ব্যাপক জনপ্রিয়। বিশেষ করে বরাক উপত্যকা ও বৃহত্তর শ্রীহট্ট অঞ্চলে তাঁর গান মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে রয়েছে। তাঁর গান গেয়ে বহু শিল্পীও পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে, পীরিতি শিখাইছে, দেওয়ানা বানাইছে’। খাঁটি সিলেটি শব্দ ও ভাষার ব্যবহারে সমৃদ্ধ এই গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। সিলেটি ভাষার লোকগানের জনপ্রিয়তা বর্তমানে এতটাই বিস্তৃত যে কলকাতার বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলেও এসব গান প্রচারিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধারাবাহিকের বিয়ের অনুষ্ঠানেও সিলেটি লোকগানের ব্যবহার শোনা যায়।
বরাক উপত্যকায় বিশেষ জনপ্রিয় তাঁর ‘বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচে না, না গো সখী’ গানটি। বিভিন্ন সামাজিক ও বিয়ের অনুষ্ঠানে গানটি এখনও পরিবেশিত হয়। এছাড়াও ‘আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে’ এবং ‘আর কিছু চাই না আমি গান ছাড়া’-সহ তাঁর অসংখ্য গান শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে।
শাহ আবদুল করিমের প্রয়াণের বহু বছর পরেও তাঁর গান লোকজীবন, প্রেম, বিরহ, প্রতিবাদ ও মানবিকতার কথা বলে চলেছে। তাঁর সৃষ্টিই তাঁকে বাংলা লোকসঙ্গীতের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।



